১০ দিনের মধ্যে সংস্কার হবে স্মৃতি উদ্যান, আশ্বাস পুর কর্তৃপক্ষের
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
শিলচর। মঙ্গলবার যথাযোগ্য মর্যাদায় জননেতা অরুণকুমার চন্দের জন্মদিন পালিত হলো। এদিন শিলচরের সদরঘাটে তাঁর পূর্ণাবয়ব প্রতিমূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে এই বরেণ্য নেতাকে স্মরণ করা হয়। তবে ‘প্রতিমূর্তি সংরক্ষণ ও স্মৃতি রক্ষা সমিতি’ আয়োজিত এই স্মরণানুষ্ঠানে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের পাশাপাশি বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়বদ্ধতা ও সদিচ্ছা নিয়ে কড়া সমালোচনা শোনা গেল।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের সদ্যপ্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক গৌতমপ্রসাদ দত্ত। বর্তমান রাজনীতির বিবর্তন নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “শিলচর পুর নিগমের আয়তন বেড়েছে, বেড়েছে ওয়ার্ড সংখ্যা। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দুই প্রধান শিবিরেই জনপ্রতিনিধি হওয়ার দৌড়ঝাঁপ ও বিধায়ক হওয়ার প্রত্যাশীদের সংখ্যাও উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই সংখ্যাতাত্ত্বিক বৃদ্ধির বিপরীতে নেতাদের নৈতিক দায়িত্ববোধ যেন ক্রমশই হ্রাস পাচ্ছে।” তিনি আক্ষেপ করে জানান, প্রতি বছর ঘটা করে অরুণকুমার চন্দের স্মৃতি তর্পণ করা হলেও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি সেভাবে চোখে পড়ে না, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
স্মরণানুষ্ঠানে উপস্থিত শিলচর পুর নিগমের এগজিকিউটিভ অফিসার নবোত্তম শর্মা প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করেন। জননেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান, অরুণকুমার চন্দের নামে নামাঙ্কিত উদ্যানটির সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের কাজ সরকারি অর্থায়নে দ্রুতগতিতে চলছে। আগামী দশ দিনের মধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে এবং এরপর সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উদ্যানটি সারাদিন উন্মুক্ত রাখা হবে।
বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের কাছাড় জেলা সমিতির সভাপতি সঞ্জীব দেবলস্কর তাঁর বক্তব্যে জননেতার ব্যক্তিগত সৌজন্য ও রাজনীতির ঊর্ধ্বে তাঁর গ্রহণযোগ্যতার স্মৃতিচারণা করেন। শুধু রাজনীতি নয়, গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনেও যে অরুণকুমার চন্দের অসামান্য অবদান ছিল, সে কথা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন সঞ্জীববাবু।
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান নিয়ে যখন সিলেট ও শিলংয়ের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল, তখন অরুণবাবু বিধানসভায় দূরদর্শী প্রস্তাব দিয়ে গুয়াহাটিতে (তৎকালীন প্রাগজ্যোতিষপুর) বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পক্ষে সওয়াল করেন, যা শেষ পর্যন্ত গৃহীত হয়েছিল।
কাছাড় কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. রমা পুরকায়স্থ জননেতার ত্যাগের কথা তুলে ধরে বলেন, অরুণকুমার চন্দের কাছে নিজের ব্যক্তিগত সংসারের চেয়ে দেশ ও সমাজের স্বার্থ ছিল সর্বাগ্রে। একজন সফল ব্যারিস্টার হয়েও আমৃত্যু গণআন্দোলন ও জনকল্যাণে নিমগ্ন থাকায় তাঁর পরিবারকে নিদারুণ অর্থকষ্টের মোকাবিলা করতে হয়েছে।



