২৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রী পীযূষ হাজরিকার সঙ্গে বৈঠক, সাময়িক বিরতিতে আন্দোলনকারীরা
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
নিজস্ব প্রতিবেদক
শিলচর : দীর্ঘ প্রতিক্ষা ও আন্দোলনের পর অবশেষে শিলচরে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি সমাজের আমরণ অনশন কর্মসূচিতে সাময়িক বিরতি টানা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার পক্ষ থেকে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি গুয়াহাটিতে মন্ত্রী পীযূষ হাজরিকার সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের লিখিত আশ্বাস মেলার পরই শুক্রবার সন্ধ্যায় আন্দোলনকারীরা তাঁদের অনশন প্রত্যাহারের ঘোষণা করেন। তবে এই বিরতিকে ‘সাময়িক’ বলে উল্লেখ করে তাঁরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন— গুয়াহাটির বৈঠকে যদি যৌক্তিক ও স্থায়ী সমাধান সূত্র না বেরোয়, তবে তাঁরা পুনরায় আরও কঠোর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে স্বায়ত্তশাসিত পরিষদ (Autonomous Council) গঠন-সহ একাধিক দাবিতে শিলচরের শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর মূর্তির পাদদেশে গণ-অবস্থান, সত্যাগ্রহ আমরণ অনশনের ডাক দেন নিখিল বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি মহাসভা, নিখিল বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি স্টুডেন্ট ইউনিয়ন এবং বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি গণসংগ্রাম পরিষদ।
এর মধ্যে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লেও দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা চিকিৎসা নিতেও অস্বীকার করেন। যদিও ইতিপূর্বে মন্ত্রী জয়ন্ত মল্লা বড়ুয়া মৌখিক আশ্বাস দিয়েছিলেন, কিন্তু লিখিত প্রতিশ্রুতির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যান নেতৃবৃন্দ।
শুক্রবার সন্ধ্যায় অনশনস্থলে নাটকীয় পরিবর্তনের সূত্রপাত ঘটে। জেলা প্রশাসনের তরফে একজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাসি টোপোনো আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো সরকারি চিঠিখানি নিখিল বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি মহাসভার সাধারণ সম্পাদক গোপীদাস সিনহার হাতে তুলে দেন। ওই চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয় যে, আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি গুয়াহাটিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে মন্ত্রী পীযূষ হাজরিকার সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সরকারের এই লিখিত পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করে আন্দোলনকারীরা অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন। গোপীদাস সিনহা, সভাপতি অনিল রাজকুমার-সহ অন্যান্য অনশনকারীরা জল ও ফল গ্রহণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অনশন ভঙ্গ করেন। অনশন প্রত্যাহারের ঘোষণা হতেই উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে খুশি ছড়িয়ে পড়ে।
এ প্রসঙ্গে গোপীদাস সিনহা বলেন, “আমরা গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাসী। সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে, তাকে সম্মান জানিয়েই আমরা আপাতত অনশন স্থগিত রাখছি। তবে আমাদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবিগুলো নিয়ে যদি গুয়াহাটির বৈঠকে কোনও সদর্থক রোডম্যাপ তৈরি না হয়, তবে রাজপথই হবে আমাদের শেষ ঠিকানা।”
বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও রাজনৈতিক ও সচেতন মহলের নজর এখন ২৪ ফেব্রুয়ারির বৈঠকের দিকে। বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি সমাজের এই দীর্ঘ লড়াইয়ের জল কতদূর গড়ায় এবং সরকার আদৌ কোনও স্থায়ী সমাধান দিতে পারে কি না, তা নিয়ে বরাক উপত্যকাজুড়ে চর্চা অব্যাহত।



