শিশুমনে কৃত্রিম বিষয়ের অবতারণা নয়, বরং ফিরে আসুক গল্পের জাদুকরী শৈশব
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
শিলচর : পৃথিবীর প্রতিটি শিশুর মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণের অধিকার সুনিশ্চিত হোক এবং সবাই যেন কোনো দ্বিধা ছাড়াই নিজের ভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে— এই সুগভীর অঙ্গীকারকে সামনে রেখেই মহান একুশে ফেব্রুয়ারি তথা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রাক-সন্ধ্যায় শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করল সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চ, শিলচর। গানে, নাচে আর মননশীল আলোচনায় এদিনের অনুষ্ঠানটি এক আন্তরিক ও বর্ণময় রূপ পরিগ্রহ করে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অজয়কুমার রায় সামগ্রিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। গৌড়ীয় নৃত্য কলাভারতীর শিল্পী অক্ষরা দাসের নান্দনিক নৃত্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। এরপরই মঞ্চে সুরের মূর্ছনা ছড়িয়ে দেয় ‘শিলচর ইয়ুথ কয়্যার’। তাঁদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ এবং হেমাঙ্গ বিশ্বাসের লোকায়ত সুরের গান ‘লঙ্গর ছাড়িয়া দে’।
সঙ্গীতের এই ধারায় একক পরিবেশনায় অংশ নেন বিশিষ্ট শিল্পী শান্তিকুমার ভট্টাচার্য, দেবাশিস চৌধুরী, ইন্দ্রাণী দত্ত, কমলিকা নাথ, ঝিমি রায় ও সুপর্ণা দাস ভট্টাচার্য। শিল্পীদের তবলায় সন্তোষ চন্দ এবং কিবোর্ডে ঋষিকেশ চক্রবর্তী যোগ্য সঙ্গত করেন। এছাড়া বংশিতা কলা নিকেতনের ছাত্রছাত্রীদের সমবেত নৃত্য পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মঞ্চের সভাপতি মনোজ দেব মাতৃভাষার প্রতি দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এদিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিশুসাহিত্য কেন্দ্রিক একটি মনোজ্ঞ আলোচনা সভা। ‘গল্প শুনে বেড়ে ওঠা: ঠাকুরমার ঝুলি থেকে হ্যারি পটার’— এই শিরোনামে আয়োজিত আলোচনায় আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষিকা পাপড়ি ভট্টাচার্য এবং মুখ্য বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শান্তনু সরকার।
উভয় বক্তাই শিশুদের মানসিক বিকাশে সাহিত্যের অনস্বীকার্য ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তাঁরা আক্ষেপ করে বলেন, আধুনিক সময়ে শিশুদের ওপর অনেক ক্ষেত্রে কৃত্রিম ও যান্ত্রিক বিষয় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা তাঁদের স্বাভাবিক সৃজনশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। শিশুদের শৈশবকে গল্পের জাদুকরী ছোঁয়ায় রাঙিয়ে তোলার জন্য তাঁরা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষলগ্নে বক্তাদের উত্তরীয় ও স্মারক প্রদান করে সম্মাননা জ্ঞাপন করেন মঞ্চের কর্মকর্তারা। বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী মনোজ দেবের সাবলীল ও মনোগ্রাহী সঞ্চালনায় এদিনের অনুষ্ঠানটি এক ভিন্ন উচ্চতায় পৌঁছে।



