প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর অন্নপূর্ণাঘাটে পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ, ছটপূজা সহ অন্যান্য পূজা অর্চনায় সুবিধা হবে
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
শিলচর। বৃহস্পতিবার শিলচর শহরের অন্নপূর্ণাঘাটে তর্পণ এবং ছট পুজোর ঘাট নির্মাণ প্রকল্পের শিলান্যাস করেন রাজ্যসভার সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ। তাঁর সাংসদ এলাকা উন্নয়ন তহবিলে বরাদ্দ এটাই প্রথম প্রকল্প। বরাদ্দ হয়েছে ৪৫ লক্ষ টাকা। এদিন প্রকল্পটির শিলান্যাস অনুষ্ঠানে রাজ্যসভার সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থের সঙ্গে ছিলেন শিলচরের বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী, প্রাক্তন বিধায়ক দিলীপ কুমার পাল, বিজেপির কাছাড় জেলা সভাপতি রূপম সাহা,সহ সভাপতি অভ্রজিত চক্রবর্তী প্রমুখ ।
এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্য অতিথি ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ। তিনি বলেন, অন্নপূর্ণাঘাটে তর্পণ ঘাট ও ছট পুজোর ঘাট নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর এমন একটি প্রকল্প রূপায়ণে অনেকেই প্রস্তাব দেন তাঁকে। তাই সাংসদ এলাকা তহবিল থেকে এমন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন তিনি। বরাদ্দ করেন ৪৫ লক্ষ টাকা।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর অন্নপূর্ণাঘাটে পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ, ছটপূজা সহ অন্যান্য পূজা অর্চনায় সুবিধা হবে। তিনি বলেন, পিতৃপুরুষদের স্মরণ করেই তিনি তাঁর এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে উন্নয়নের যাত্রা শুরু করেছেন। আগামী দিনে সেই ধারা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আজকের দিনে বরাক উপত্যকায় উন্নয়নের জোয়ার বইছে।

এক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের এলাকা উন্নয়ন তহবিল এক অনুঘটকের কাজ করে। এ বিভিন্ন খাতে জনগণের প্রদেয় কর থেকে সংগৃহীত এই অর্থ প্রয়োজন অনুসারে উন্নয়নমূলক কাজের জন্য জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ব্যয় করা হয়।সেজন্য এর কৃতিত্ব নিতে নিমরাজি সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ বলেন, সরকার এবং জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধনের মাধ্যম হলেন জনপ্রতিনিধি। যেখানে সেতুবন্ধন যত মজবুত হয়, সেখানকার উন্নয়ন দ্রুত ত্বরান্বিত হয়।
এর আগে বরাক উপত্যকার যোগাযোগ ও পরিকাঠামো উন্নয়নে আলোকপাত করে সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ বলেন, কেন্দ্রে অটল বিহারী বাজপেয়ী নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বরাক উপত্যকার যোগাযোগ উন্নয়নে মহাসড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হয়। একসময়ে কংগ্রেস এই প্রকল্পকে মহাধাপ্পা বলে কটাক্ষ করলেও আজকের দিনে সেই মহাসড়ক প্রকল্প রূপায়ণের পথে। বাজপেয়ীর পর কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাসীন হলে বরাক উপত্যকার গণদাবি ব্রডগেজ সম্প্রসারণের কাজ সম্পন্ন হয়।
আজকের দিনে বরাক উপত্যকা থেকে দেশের বিভিন্ন রাজধানীর সঙ্গে রেল যোগাযোগ গড়ে উঠেছে। তবে বরাকে রেল পরিকাঠামোর আরও উন্নয়নের আবশ্যকতা রয়েছে। সেই উপলব্ধি থেকেই রাজ্যসভার সাংসদ পদে শপথ নেওয়ার আগেই রেলমন্ত্রী সকাশে গিয়ে বরাক উপত্যকার রেল যোগাযোগ ক্ষেত্রে নানা সমস্যার কথা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের বিষয় তুলে ধরেন।
ইতিমধ্যে একাধিক সমস্যা নিরসন হয়েছে। সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ আরও উল্লেখ করেন যে আজকের দিনে বরাক উপত্যকায় ভারত মালা এবং অসম মালা প্রকল্পের কাজ চলছে। আগামী ১৪ মার্চ বরাক সফরে এসে পাঁচগ্রাম- বড়পানি এক্সপ্রেস হাইওয়ের শিলান্যাস করবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। এই মুহূর্তে বরাক উপত্যকার পরিকাঠামো উন্নয়নে হাজার, হাজার কোটি টাকার কাজ চলছে।
এসব প্রকল্প রূপায়ণের পর যোগাযোগ ক্ষেত্রের সঙ্গে বরাকের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন এবং শিল্পদ্যোগ ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হবে। কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলবে।কংগ্রেস আমলে বরাক উপত্যকায় এমন উন্নয়ন কল্পনাতীত ছিল। অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রসঙ্গে শিলচরের বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে সাংসদ তহবিলের প্রথম প্রকল্প তর্পণঘাট ও ছট পুজা ঘাটে ৪৫ লক্ষ টাকা অনুমোদন করেছেন রাজ্যসভা সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ।
সেজন্য শিলচরের জনগণের পক্ষে সাংসদ পুরকায়স্থের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ পালনে বা ছটপূজায় কোনো পাকাপোক্ত ঘাট না থাকায় এতদিন প্রচণ্ড অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছিলেন পূণ্যার্থীরা। এই প্রকল্পটির রূপায়ণের পর সেই অসুবিধা দূর হবে। স্বাচ্ছন্দ্যে এবং সুন্দর এক পরিবেশে ধর্মপ্রাণ মানুষ শাস্ত্রীয় বিধি ও পূজা পার্বণ পালন করতে পারবেন।
আগামী দিনেও শিলচরের উন্নয়নে এভাবেই সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বিধায়ক।সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বিজেপির কাছাড় জেলা সভাপতি রূপম সাহা বলেন, রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হয়েই বরাক উপত্যকার উন্নয়নের স্বার্থে এবং নানা সমস্যার কথা ধারাবাহিকভাবে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রকের মন্ত্রী এবং সংসদে তুলে ধরছেন কণাদ পুরকায়স্থ।
সাংসদ এলাকা উন্নয়ন তহবিলে বরাদ্দ প্রথম প্রকল্পটির শিলান্যাস করলেন শিলচরে। যে প্রকল্প বাস্তবায়নের পর অন্নপূর্ণাঘাটে বরাক নদীতে হিন্দু শাস্ত্রীয় বিধি তর্পণ, আরতি ,ছটপুজা সহ অন্য পূজা পার্বণে পূণ্যার্থীদের সুবিধা হবে।শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে বিভাগীয় বাস্তুকার অনুভব দাস ৪৫ লক্ষ টাকার প্রকল্পের কারিগরি দিক নিয়ে আলোকপাত করেন। অনুষ্ঠানে মঞ্চাসীন ছিলেন সমাজকর্মী বিবেক পোদ্দার, নারায়ণ চৌধুরী, বাসুদেব শর্মা, বিজেপির মধ্যসহর মণ্ডল সভাপতি হীরক চৌধুরী, শিলচর ব্লক মণ্ডল সভাপতি পিকলু দাস প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন বিপ্লব দেবনাথ।



