বর্ষার আগে বাঁধ সংস্কার না হলে ফের প্রলয়ের আশঙ্কা, প্রশাসনের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব শিলচরের চার সংগঠন

2 - মিনিট |

৩১ মার্চের মধ্যে কাজ শেষের প্রতিশ্রুতি বিভাগীয় কর্তার

কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো

শিলচর।২০২২ সালের প্রলয়ঙ্করী বন্যার ক্ষত এখনও শিলচরবাসীর স্মৃতিতে দগদগে। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কায় শহরবাসী যখন সিঁদুরে মেঘ দেখছেন, তখন বেতুকান্দি ও বেরেঙ্গা-নাথপাড়া— এই দুই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাঁধের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার আজও বিশ বাঁও জলে।

আসন্ন বর্ষার আগে যদি এই বাঁধগুলোর জরুরি মেরামতি সম্পন্ন না হয়, তবে ফের বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে শিলচর। এই উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে রবিবার প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে একজোট হয়ে নাথপাড়া এলাকা পরিদর্শনে নামলেন শহরের চারটি সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও স্থানীয় নাগরিকরা।

এদিন ইউনিফায়েড ফোরাম ফর বরাকভ্যালি, মার্চ ফর সায়েন্স, নাগরিক স্বার্থরক্ষা সংগ্রাম পরিষদ এবং প্রগতিশীল নাগরিক সমন্বয় মঞ্চের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করে বাঁধের বর্তমান জরাজীর্ণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। উপস্থিত ছিলেন জলসম্পদ বিভাগের এসডিও বদরুল হক লস্করসহ অন্যান্য ইঞ্জিনিয়াররা।

প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে বিভাগীয় কর্তাদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, নাথপাড়া এলাকার অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৮০ মিটারের বাঁধ সশক্তিকরণের কাজ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে শেষ করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন তারা।

নাগরিকদের প্রবল চাপের মুখে বিভাগীয় এসডিও বদরুল হক লস্কর ও তাঁর প্রকৌশলীরা প্রতিশ্রুতি দেন যে, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যেই এই অংশের কাজ সম্পন্ন হবে। কাজের স্বচ্ছতা ও গতি নিশ্চিত করতে এদিন একটি তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী ১০ ও ২০ মার্চ পুনরায় প্রকল্পস্থলে বৈঠক করে যথাক্রমে ৩৩ শতাংশ ও ৬৬ শতাংশ কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।

উল্লেখ্য, অসমের জলসম্পদ বিভাগ গত চার বছরে ২২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ১০০০ কিলোমিটার বাঁধ সশক্তিকরণের দাবি করলেও শিলচরের বাস্তব চিত্র এই পরিসংখ্যানকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। এর আগে গত ১৬ ডিসেম্বর পাঁচটি সংগঠনের প্রতিনিধি দল জলসম্পদ বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন।

সেখানে এসডিও দেবাশীষ আচার্য ও বদরুল হক লস্কর আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, বেতুকান্দি বাঁধে জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক জট দ্রুত কাটবে এবং নাথপাড়ার ঝুঁকিপূর্ণ অংশের কাজ এক মাসের মধ্যে শেষ হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন না ঘটায় ক্ষোভ বাড়ছে জনমানসে।

অভিযোগ উঠেছে, গত বিধ্বংসী বন্যার অন্যতম কারণ ছিল এই দুই বাঁধের দুর্বল অবস্থা। বর্তমানে বেরেঙ্গা-নাথপাড়া বাঁধের যে ৮০ মিটার অংশ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, সেখানে বাঁধের প্রস্থ কোথাও কোথাও মাত্র দুই থেকে তিন ফুটে এসে ঠেকেছে। ১.৬৯ কোটি টাকা বরাদ্দ হওয়া সত্ত্বেও কাজের ধীরগতি প্রশাসনের সদিচ্ছাকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। অন্যদিকে, বেতুকান্দি বাঁধে ১০.৪৭ কোটি টাকার সশক্তিকরণ প্রকল্প এবং ৭ কোটি টাকার স্লুইস গেট নির্মাণ আজও অসম্পূর্ণ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে খবর, প্রায় ৫ কোটি টাকার জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এদিনের পরিদর্শনে উপস্থিত প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন যে, স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের সক্রিয় তদারকির মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে। নাগরিক মঞ্চের কর্মকর্তাদের মতে, “শিলচরকে বন্যার গ্রাস থেকে বাঁচাতে হলে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির ঊর্ধ্বে উঠে প্রশাসনিক সক্রিয়তা ও জনসচেতনতা এখন সময়ের দাবি।”

পরিদর্শনে অংশ নেন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কবি অতীন দাশ, মনোজ বিশ্বাস, অনির্বাণ ভৌমিক, রামানুজ ভট্টাচার্য, বিশ্বজিৎ সেন, শান্তনু দাস, অমল পাল, সাহিদ সদিয়ল। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কৃশানু ভট্টাচার্য, খাদিজা বেগম লস্কর, মলয় ভট্টাচার্য, বিমল কান্তি দে, ধ্রুবজ্যোতি সাহা, সাধন পুরকায়স্থ, অধ্যাপক অজয় রায়, মলয় দত্ত প্রমুখ। স্থানীয়দের তরফে আবুল কালাম আজাদ মজুমদার, গৌতম নাথ, দীপঙ্কর নাথ চৌধুরীসহ আরও অনেকে নিজেদের আশঙ্কার কথা বিভাগীয় আধিকারিকদের সামনে তুলে ধরেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related news