ছয় মাস সময় চাইলেন অধিকারী, ‘লাভ জিহাদ-ল্যান্ড জিহাদ’-এর বিরুদ্ধে কড়া আইনের বার্তা

2 - মিনিট |

ইউসিসি কার্যকরের পর ধর্মান্তর নিয়েও কঠোর আইন আনার ঘোষণা; সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই সরকার চলবে বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

কলকাতা:পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি কার্যকর করার পর ‘লাভ জিহাদ’, ‘ল্যান্ড জিহাদ’ এবং ধর্মান্তর রুখতে কঠোর আইন আনা হবে বলে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী সুবেন্দু অধিকারী। রবিবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি অশোক সিঙ্ঘলের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এই আইন তৈরির জন্য তাঁর সরকারকে ছয় মাস সময় দিতে হবে।

অধিকারীর দাবি, উত্তরাখণ্ড ও গুজরাটের মডেল অনুসরণ করেই পশ্চিমবঙ্গে ইউসিসি কার্যকর করা হবে। তাঁর বক্তব্য, ইউসিসি চালুর পরই ‘লাভ জিহাদ’, ‘ল্যান্ড জিহাদ’ এবং ধর্মান্তরের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই ইউসিসির খসড়া নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। প্রাক্তন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার ও দত্তক গ্রহণের মতো দেওয়ানি বিষয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জন্য অভিন্ন আইনি কাঠামোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ওই কমিটি।

অধিকারী বলেন, তাঁর সরকার সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই কাজ করবে। একই সঙ্গে ভারতীয় সংস্কৃতি, সনাতনী ঐতিহ্য, মন্দির, মঠ এবং দেশের ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের উপর কোনও আক্রমণ বরদাস্ত করা হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, সেখানে এখনও কেউ কেউ ‘আজাদি’ স্লোগান দিচ্ছেন। এই ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ করার কথাও বলেন তিনি।

তবে তাঁর বক্তব্যের এই অংশে নির্দিষ্ট কোনও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য বা স্বাধীন প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি।

রাজ্যে ধর্মীয় পর্যটন বাড়াতে একটি বিশেষ সার্কিট তৈরির কথাও ঘোষণা করেন অধিকারী। তাঁর দাবি, প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে দুই বছরের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের পরামর্শ ও সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি।

অধিকারী আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে আক্রমণ করে অভিযোগ করেন, হিন্দু ভাবাবেগ, সংগঠন, দেবদেবী ও ঐতিহ্য নিয়ে একাধিক ঘটনার প্রভাবেই তাদের রাজনৈতিক পরাজয় হয়েছে। পাহাড়ি সম্প্রদায়, আদিবাসী, মতুয়া এবং বাঙালি ও অবাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজন তৈরির অভিযোগও তোলেন তিনি।

রাম জন্মভূমি আন্দোলনের প্রসঙ্গও টেনে আনেন অধিকারী। কলেজে পড়ার সময় ওই আন্দোলনে অংশ নেওয়া এবং শিলাযাত্রায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার কথা জানান তিনি।

রাজ্যের বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে পুণ্যার্থীদের উপর হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি এবং কাঁওয়ার যাত্রীদের জন্য নেওয়া সরকারি উদ্যোগের উল্লেখ করেন তিনি।

এছাড়া পিতৃপক্ষ চলাকালীন দুর্গাপুজোর উদ্বোধন না করার কথা জানান অধিকারী। মহালয়ার একটি বড় অনুষ্ঠান ইডেন গার্ডেনে আয়োজনের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদকেও আমন্ত্রণ জানানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।

নভেম্বরে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ২০ হাজার মানুষের হনুমান চালিশা পাঠ এবং ২৯ ডিসেম্বর ১০ লক্ষ মানুষের অংশগ্রহণে গীতা পাঠের পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

আগামী বছরের গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে জানান অধিকারী। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক মানের পরিকাঠামো ও পরিষেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এবার থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

অধিকারীর ঘোষণায় ইউসিসি থেকে ধর্মীয় পর্যটন, আইনশৃঙ্খলা থেকে একাধিক ধর্মীয় কর্মসূচি—রাজ্য সরকারের আগামী দিনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের একটি বিস্তৃত ছবি সামনে এসেছে। তবে ‘লাভ জিহাদ’, ‘ল্যান্ড জিহাদ’ ও ধর্মান্তর নিয়ে প্রস্তাবিত আইনগুলির নির্দিষ্ট ধারা ও পরিধি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *