২০২৩-এর হিংসার পর থেকে নিখোঁজদের পরিবারকে এককালীন আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার; সেনা ও সিএপিএফ জওয়ানদের ক্ষতিপূরণও বাড়ল
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
ইম্ফল: মণিপুরে ২০২৩ সালের মে মাস থেকে নিখোঁজ ৪৯ জনের পরিবারের জন্য এককালীন ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য মন্ত্রিসভা। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী যুমনাম খেমচাঁদ সিংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাজ্য সরকারের মুখপাত্র তথা বিধায়ক সাপাম রঞ্জন সিং জানান, স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রস্তাব মেনে বিশেষ মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে নিখোঁজদের নিকটাত্মীয়দের এই অর্থ দেওয়া হবে। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে খোঁজ চালিয়েও ৪৯ জনের কোনও সন্ধান মেলেনি।
আইনি জটিলতায় ক্ষতিপূরণ পাচ্ছিলেন না পরিবারগুলি
মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে নিখোঁজদের পরিবারগুলির দীর্ঘদিনের আইনি ও প্রশাসনিক সমস্যা।
সরকারের বক্তব্য, সংঘাতে কোনও ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁকে আইনের চোখে মৃত বলে ধরে নিতে সাধারণত সাত বছর সময় লাগে। ফলে নিখোঁজদের পরিবারগুলি অনেক ক্ষেত্রেই মৃতদের পরিবারের জন্য নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে পারছে না।
মৃত্যুসনদ বা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের মতো নথিও তাঁদের কাছে নেই। ফলে কেন্দ্রীয় সহায়তা প্রকল্পের অধীনে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে জটিলতা।
রঞ্জন সিংয়ের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে প্রিয়জনের কোনও সন্ধান না পাওয়া পরিবারগুলির আর্থিক ও সামাজিক দুর্ভোগ সংঘাতে পরিবারের সদস্য হারানো অন্য পরিবারগুলির সমস্যার সঙ্গে তুলনীয়। সেই কারণেই মানবিক বিবেচনায় তাঁদেরও ১০ লক্ষ টাকা করে সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা।
সেনা ও সিএপিএফ জওয়ানদের ক্ষতিপূরণও বাড়ল
মণিপুরে উগ্রপন্থী হিংসার মোকাবিলায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিহত বা আহত সেনা এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী বা সিএপিএফ কর্মীদের জন্যও ক্ষতিপূরণের হার সংশোধন করেছে মন্ত্রিসভা।
রঞ্জন জানান, এতদিন মৃত্যুর ক্ষেত্রে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য ১০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হত। ২০০৬ সালে নির্ধারিত এই হার বর্তমান পরিস্থিতিতে যথেষ্ট নয় বলেই তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
নতুন হারে—
- কর্তব্যরত অবস্থায় মৃত্যুর ক্ষেত্রে ১০ লক্ষ টাকা
- স্থায়ী ভাবে অক্ষম হলে ২ লক্ষ টাকা
- গুরুতর আহত হলে ১ লক্ষ টাকা
- সাধারণ আঘাতের ক্ষেত্রে ২০ হাজার টাকা
দেওয়া হবে।
রাজ্য পুলিশের কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ক্ষতিপূরণের হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।
অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের পেনশনও বাড়ল
মন্ত্রিসভার বৈঠকে অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের মাসিক পেনশনও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতদিন মাসে ৮ হাজার টাকা করে পেনশন দেওয়া হত। তা বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
যোগ্য উত্তরাধিকারীদের পারিবারিক পেনশনও ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭ হাজার টাকা করা হয়েছে।
এছাড়া ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষের জন্য পঞ্চম মণিপুর স্টেট ফিনান্স কমিশন গঠনের প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
২০২৩ সালের ৩ মে থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘস্থায়ী জাতিগত সংঘাতের মধ্যে মণিপুরে বহু মানুষ নিহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তার পাশাপাশি নিখোঁজদের পরিবারগুলির অনিশ্চয়তাও দীর্ঘদিন ধরে চলেছে। সেই পরিস্থিতিতে ৪৯টি পরিবারকে সরাসরি আর্থিক সহায়তার এই সিদ্ধান্ত নিখোঁজদের পরিবারের জন্য একটি পৃথক সরকারি সহায়তার পথ তৈরি করল।


