শুক্রবার বিকেল ৫টায় কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে মিছিলের ডাক। অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ, জারি নিষেধাজ্ঞা; নজরদারিতে বসানো হয়েছে ১০টিরও বেশি নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা।
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
নয়াদিল্লি: কক্রোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রস্তাবিত ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ মিছিল ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করল দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে শুক্রবার বিকেল ৫টায় কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। তার আগে ৬ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) ২২০ কোম্পানি এবং অতিরিক্ত নজরদারি ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
কনট প্লেস, রাজীব চক, সেন্ট্রাল পার্ক, যন্তর মন্তর, পালিকা বাজার, সংলগ্ন মেট্রো স্টেশন এবং লুটিয়েনস দিল্লির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। পটেল চক, আইটিও এবং সংসদ মার্গেও বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।
পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, বিভিন্ন জেলা থেকে অতিরিক্ত বাহিনী আনা হচ্ছে। অন্য জেলাগুলিতে আরও ৫ হাজার পুলিশকর্মীকে জরুরি পরিস্থিতিতে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ভিড় বাড়লে কিংবা রাতে কর্মসূচি দীর্ঘায়িত হলে নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে।
সিএপিএফের ২২০ কোম্পানিকে নয়াদিল্লি-সহ সংলগ্ন জেলা, সীমান্তবর্তী এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তার কাজে ব্যবহার করা হবে। প্রতিটি পালায় ৩০ কোম্পানি করে বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজন হলে এক পালায় সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ৬০ কোম্পানি করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন ওই আধিকারিক।
সেন্ট্রাল পার্কে নতুন ক্যামেরা, দু’দিন বন্ধ পার্ক
সমাবেশের উপর নজরদারি বাড়াতে সেন্ট্রাল পার্ক ও রাজীব চকের আশপাশে ১০টিরও বেশি নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, সেন্ট্রাল পার্ক এলাকায় আগে ক্যামেরার সংখ্যা কম ছিল। বড় জমায়েতের সম্ভাবনা থাকায় নতুন ক্যামেরা বসিয়ে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। কোনও নিয়মভঙ্গ বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে ফুটেজও সংরক্ষণ করা হবে।
নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল (এনডিএমসি) জানিয়েছে, ‘প্রশাসনিক কারণে’ শুক্রবার ও শনিবার সাধারণ মানুষের জন্য সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ থাকবে। পার্কে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ ঠেকাতেও পুলিশকে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের জনসংযোগ আধিকারিক নেহা যাদব জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়নি। কনট প্লেস ও আশপাশের এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা অনুযায়ী জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমায়েত করলে বা জনশান্তি বিঘ্নিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে পুলিশ।
তবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার জন্য বেছে নেওয়া কয়েক জনকে অন্য কোনও উপযুক্ত স্থানে কর্মসূচির অনুমতি দেওয়ার কথা বিবেচনা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন নেহা যাদব।
যন্তর মন্তরে সংঘাতের জের
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে সিজেপি ও দিল্লি পুলিশের মধ্যে টানাপড়েনের মধ্যেই এই মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। ১৩ অক্টোবর অনুমতি ছাড়া যন্তর মন্তরে প্রবেশের অভিযোগে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর পর ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
মিছিলে ছাত্র সংগঠন, সমাজকর্মী এবং আম আদমি পার্টির (আপ) সমর্থকদেরও যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কনট প্লেসের একাধিক প্রবেশপথ, সংলগ্ন বাজার এবং বাণিজ্যিক এলাকায় ভিড় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে পুলিশ।
এদিকে কনট প্লেসের ব্যবসায়ী ও বণিক সংগঠনগুলি নিজেদের দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, বড় জমায়েতের কারণে ব্যবসায় প্রভাব পড়ছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও বাণিজ্যিক কাজকর্ম যাতে অযথা ব্যাহত না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হবে।
অনুমতি না থাকায় প্রস্তাবিত মিছিলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। পুলিশ সাধারণ মানুষকে নিষিদ্ধ জমায়েত এড়িয়ে চলার আবেদন জানিয়েছে।


