অসমে দুর্গা পুজোর মণ্ডপের সংখ্যা সর্বকালীন রেকর্ডে, ২০২৬-এ ৯,০০২: হিমন্ত

2 - মিনিট |

গত বছরের তুলনায় মণ্ডপ বেড়েছে ৪৮১টি। রাজ্যে শান্তি, বিশ্বাস ও সম্প্রীতির পরিবেশকেই এই সাফল্যের কৃতিত্ব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

গুয়াহাটি:অসমে দুর্গাপুজোর মণ্ডপের সংখ্যা এ বছর সর্বকালীন রেকর্ড গড়ল। ২০২৬ সালে রাজ্যজুড়ে মোট ৯,০০২টি বারোয়ারি দুর্গাপুজোর আয়োজন হয়েছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তাঁর দাবি, রাজ্যে শান্তি, বিশ্বাস ও সম্প্রীতির পরিবেশের প্রতিফলন এই রেকর্ড সংখ্যা।

রবিবার সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালে অসমে দুর্গাপুজোর মণ্ডপের সংখ্যা ছিল ৮,৫২১। ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা ছিল ৮,৩৮১। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় এ বার মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ৪৮১টি। ২০২৪ সালের তুলনায় বৃদ্ধি ৬২১টি।

দুর্গাপুজোর আয়োজন সফল করতে পুজো কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক, পুলিশকর্মী এবং অন্যান্য সরকারি কর্মীদের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান হিমন্ত। দিনরাত পরিশ্রম করে যাঁরা উৎসবের আয়োজন ও পরিচালনার দায়িত্ব সামলেছেন, তাঁদের সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি লেখেন, “জয় মা দুর্গা”।

অসমে দুর্গাপুজোকে ঘিরে প্রতি বছরই সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা যায়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি মণ্ডপসজ্জা, শিল্পকর্ম ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যও উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটিতে এ বছরও বিভিন্ন পুজো কমিটি পুরাণ, মন্দিরের স্থাপত্য এবং জনজাতীয় ঐতিহ্যকে সামনে রেখে নানা থিমের মণ্ডপ তৈরি করেছে।

বিষ্ণুপুর সার্বজনীন দুর্গাপুজোয় এ বার ‘নাগলোক’ থিম বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে। পুরাণে বর্ণিত সর্পরাজ্যের ধারণার উপর ভিত্তি করে তৈরি এই মণ্ডপে রয়েছে জলনির্ভর বিশেষ আয়োজন। নৌকায় চড়ে প্রতিমার কাছে পৌঁছনোর সুযোগও রাখা হয়েছে। পুজোটি এ বছর ৭৬ বছরে পা দিয়েছে।

অন্য দিকে, ছত্রিবাড়ি দুর্গাপুজোয় অসমের জনজাতীয় ঐতিহ্য ও পরিচয়কে তুলে ধরা হয়েছে। বোড়ো, মিসিং, রাভা, দেওরি এবং কোচ-রাজবংশী-সহ ১৪টি জনগোষ্ঠীর পোশাক, সংস্কৃতি ও পরম্পরা স্থান পেয়েছে মণ্ডপের উপস্থাপনায়। ৬০ ফুটেরও বেশি উচ্চতার এই মণ্ডপে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ও সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী।

পাণ্ডুর রেস্ট ক্যাম্প কালীবাড়িতে থাইল্যান্ডের স্থাপত্যশৈলী থেকে অনুপ্রাণিত মণ্ডপ তৈরি হয়েছে, যেখানে হিন্দু ও বৌদ্ধ স্থাপত্যের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য মিশেছে। আদাবাড়ির কামাখ্যা নগরে জগন্নাথ মন্দিরের আদলে মণ্ডপ গড়েছে একটি পুজো কমিটি। পানবাজারের যুবতীর্থ ক্লাবের এ বছরের থিম দশাবতার, সেখানেও জগন্নাথ মন্দিরের স্থাপত্যের প্রভাব রয়েছে।

নতুন নতুন থিমের পাশাপাশি গুয়াহাটির পুরনো পুজোগুলিও নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। শহরের প্রাচীনতম দুর্গাপুজো হিসেবে পরিচিত উজানবাজার বারোয়ারি পুজোর ইতিহাস শুরু হয়েছিল ১৮২১ সালে আহোম রাজপরিবারের ব্যক্তিগত পুজো থেকে। পরে ১৮৮৯ সালে তা সর্বজনীন রূপ পায়।

রাজ্যজুড়ে ৯,০০২টি মণ্ডপে পুজোর আয়োজন এ বছরের উৎসবের ব্যাপকতাকেই তুলে ধরছে। পুজো কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও অন্যান্য সরকারি কর্মীদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *