৩.৬ কোটি টাকার সেতু ভেঙে পড়ল হাইলাকান্দিতে, বরাকে এ বছর চতুর্থ

2 - মিনিট |

মোহনপুরে নির্মীয়মাণ সেতু ধসে ক্ষোভ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ স্থানীয়দের; মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন বিধায়ক মিলন দাস

কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো

হাইলাকান্দি:হাইলাকান্দির মোহনপুরে নির্মীয়মাণ একটি আরসিসি সেতু বুধবার সকালে ভেঙে পড়ল। প্রায় ৩.৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মীয়মাণ সেতুটি আলগাপুর-কাটলিছড়া বিধানসভা এলাকার বেকরহাল নদীর উপর তৈরি হচ্ছিল। এই ঘটনা চলতি বছরে বরাক উপত্যকায় সেতু ভেঙে পড়ার চতুর্থ ঘটনা বলে জানা গিয়েছে।

সকাল প্রায় ৭টা নাগাদ সেতুটির একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, সেতু নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং নির্মাণকাজের মান নিয়ে আগেই সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই অভিযোগের পরও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, সেতু নির্মাণে ব্যবহৃত বালি ও রডের মান নিয়ে প্রশ্ন ছিল। শাটারিংয়ের কাজ নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছিল বলে তাঁদের দাবি।

এক বাসিন্দার অভিযোগ, “সাইট ইঞ্জিনিয়ার, দফতরের ইঞ্জিনিয়ার এবং ঠিকাদারকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। কিন্তু কেউ গুরুত্ব দেননি।”

আরও এক বাসিন্দার দাবি, এই সেতুটি এলাকার হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বারবার অভিযোগ জানানোর পরও ব্যবস্থা না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত নির্মীয়মাণ সেতুটিই ভেঙে পড়েছে।

সেতু ধসে পড়ার দৃশ্য স্থানীয় বাসিন্দারা ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। সেই ভিডিওতে নির্মাণাধীন সেতুর কাঠামো ভেঙে পড়তে দেখা যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে হাইলাকান্দির বিধায়ক মিলন দাস উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সেতু ভেঙে পড়ার বিষয়টি ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে জানানো হয়েছে।

মিলন দাস বলেন, “আমি ইতিমধ্যেই বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছি। সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।”

তবে সেতু ভেঙে পড়ার প্রকৃত কারণ এখনও সরকারি ভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী বা ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণপ্রক্রিয়ার অভিযোগও এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

হাইলাকান্দির এই ঘটনা বরাক উপত্যকার সেতু পরিকাঠামোর মান ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। চলতি বছরেই উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক সেতু ভেঙে পড়েছে।

ফেব্রুয়ারিতে শ্রীভূমি জেলার আনিপুরে সিঙ্গলা সেতু সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। মে মাসে কাছাড় জেলার শিলচর-কালাইন সড়কের বোরখোলা এলাকায় আরও একটি সেতু ধসে যায়।

এর পর চলতি মাসের গোড়াতেই শ্রীভূমি জেলার জাতীয় সড়ক ৮-এর মোকইভাঙায় একটি সেতু ভেঙে পড়ে।

পরপর এই ধরনের ঘটনায় বরাক উপত্যকায় সেতু নির্মাণের গুণমান, প্রকল্পের তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের নজরদারি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

মোহনপুরের সেতু ধসের পর এখন মূল প্রশ্ন—নির্মাণকাজে কোনও অনিয়ম হয়েছিল কি না, স্থানীয়দের অভিযোগ আগে কেন গুরুত্ব পায়নি এবং সেতুটি ভেঙে পড়ার জন্য প্রকৃত দায় কার। তদন্তের পরই তার উত্তর মিলবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *