প্যান্ডেল-গেটে রাস্তা দখল নয়, সিসিটিভি ও স্বেচ্ছাসেবক বাধ্যতামূলক; প্রতিমা বিসর্জনে ডুবুরি-সহ উদ্ধারকারী দল, দু’দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে প্রক্রিয়া
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
শিলচর:দুর্গাপুজো ২০২৬ নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করল কাছাড় জেলা প্রশাসন। যানজট নিয়ন্ত্রণ, ভিড় সামলানো, অগ্নি ও বিদ্যুৎ নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময় দুর্ঘটনা এড়ানো—সব দিকেই পুজো কমিটিগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে।
এ নিয়ে রবিবার শিলচরের জেলা আয়ুক্তের কার্যালয়ের নিউ কনফারেন্স হলে বৈঠক হয়। অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত তথা এডিসি মনোজ্যোতি কুটুমের সভাপতিত্বে আয়োজিত বৈঠকে বিভিন্ন পুজো কমিটির প্রতিনিধি এবং প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের শুরুতে গত বছরের পুজো সংক্রান্ত বৈঠকের কার্যবিবরণী এবং প্রাসঙ্গিক শর্তাবলি তুলে ধরা হয়। পরে পুজো কমিটিগুলিকে সামাজিক বার্তাভিত্তিক থিম গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ‘বেটি বচাও, বেটি পড়াও’, স্বচ্ছ ভারত অভিযান এবং সিঙ্গল-ইউজ প্লাস্টিক বর্জনের মতো বিষয় রাখা হয়েছে।
রাস্তা দখল করে প্যান্ডেল নয়
প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে, রাস্তা আটকে বা জনসাধারণের চলাচলে বাধা তৈরি করে কোনও পুজোর প্যান্ডেল বা গেট তৈরি করা যাবে না। সরকারি জমিতে প্যান্ডেল বা গেট করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি বা এনওসি নিতে হবে।
প্রয়োজন অনুযায়ী পিডব্লিউডি (বিল্ডিংস), পিডব্লিউডি (রোডস), পিডব্লিউডি (এনএইচ), শিলচর পুরনিগম, ট্রাফিক পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ভিড় সামলাতে প্রতিটি পুজোমণ্ডপে দুটি প্রবেশপথ ও দুটি বেরোনোর গেট রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুজো কমিটিগুলিকে সিসিটিভি বসানো এবং পরিচয়পত্র-সহ পুরুষ ও মহিলা স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার্স) মানস সাইকিয়া পুজো কমিটিগুলিকে পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় রাখার আহ্বান জানান।
পার্কিং ও যানজটে কড়া নজর
পুজোর ব্যস্ত সময়ে সুশৃঙ্খল পার্কিংয়ের উপর বিশেষ জোর দিয়েছে প্রশাসন। মূল রাস্তা বা যানজটের সম্ভাবনা রয়েছে এমন জায়গায় গাড়ি রাখা যাবে না। নির্দিষ্ট পার্কিং এলাকায় যানবাহন রাখার ব্যবস্থা করতে হবে এবং পুলিশ তা নজরদারি করবে।
পুজোর আগে রাস্তার গর্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের জন্য পিডব্লিউডি (রোডস) ও এনএইচআইডিসিএলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ফুটপাথের বেআইনি দখল সরাতেও শিলচর পুরনিগমকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আগুন, বিদ্যুৎ ও খাবারের নিরাপত্তা
প্রতিটি পুজোমণ্ডপে জেনারেটর-সহ বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, প্রাথমিক চিকিৎসার পরিকাঠামো, জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম, বালি, জল এবং পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসাদ তৈরির ও বিতরণের সময় খাদ্যে দূষণ যাতে না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। মাইক ও লাউডস্পিকারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শব্দসীমা মেনে চলতে হবে। বিসর্জনের শোভাযাত্রাতেও এই নিয়ম কার্যকর থাকবে।
প্রতিটি পুজোমণ্ডপে হাসপাতাল, পুলিশ, দমকল ও জরুরি পরিষেবা, বিদ্যুৎ এবং জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের জরুরি ফোন নম্বর দৃশ্যমান জায়গায় টাঙিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিসর্জনে ডুবুরি, নৌকা; দু’দিনের মধ্যে শেষ
প্রতিমা বিসর্জনের সময় নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কাছাড়ের পুলিশ সুপারকে অসম রাইফেলস, সেনা, বিএসএফ, সিআরপিএফ, এসডিআরএফ এবং অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ডুবুরি-সহ উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিসর্জন ঘাটে শিলচর পুরনিগমের ব্যবহারের জন্য আইডব্লিউটি একটি মোটরবোট রাখবে। এসডিআরএফের নৌকাও ঘাটের কাছে মোতায়েন থাকবে।
প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিমা বিসর্জনের পুরো প্রক্রিয়া দু’দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে।
পুজো কমিটিগুলির স্থানীয় দাবিও উঠল
বৈঠকে বিভিন্ন পুজো কমিটির প্রতিনিধিরা স্থানীয় সমস্যার কথাও জানান। সিআর অ্যাভিনিউ সর্বজনীন মাতাবাড়ি সংস্থা প্রসাদ বিতরণের সময় সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত যানজটের আশঙ্কার কথা জানিয়ে ব্যারিকেড ও পুলিশি সহায়তা চায়।
উধারবন্দ সর্বজনীন কালীবাড়ি কমিটি লাঠিগ্রাম-উধারবন্দ সড়কের গর্ত মেরামতের দাবি জানায়। পাশাপাশি নিজেদের কন্ট্রোল রুম ও মেডিক্যাল সেল চালানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে অতিরিক্ত চিকিৎসক দল ও প্রাথমিক চিকিৎসার কিট চাওয়া হয়।
অন্য দিকে, শিলচরের গিরিশ রোড-মালিনিবিল এলাকার একটি পুজো কমিটি রাতে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং রাইডার্স স্কোয়াডের টহল বাড়ানোর দাবি জানায়।
এডিসি মনোজ্যোতি কুটুম পুলিশ ও স্বাস্থ্য দফতরকে সংশ্লিষ্ট দাবিগুলি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
পুজোর আগে প্রশাসনের তরফে সব পুজো কমিটির কাছ থেকে সমন্বয় ও সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি সার্কেলের সার্কেল অফিসারদের নিজেদের এলাকায় আয়োজিত দুর্গাপুজোর পূর্ণ তালিকা—স্থান, কমিটির নাম, সভাপতি-সম্পাদকের নাম ও যোগাযোগ নম্বর-সহ—প্রস্তুত করে জমা দিতে বলা হয়েছে।


