৪২টির মধ্যে জোটের দখলে ৩৪; কংগ্রেস ২, নির্দল ৬—পুনর্গণনার পরও বদলায়নি ২৯, ৩০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের ফল
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
শিলচর: শিলচর পুরনিগমের প্রথম নির্বাচনে ৪২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩২টিতে জয় পেল বিজেপি। জোটসঙ্গী অসম গণ পরিষদ (এজিপি)-কে সঙ্গে নিয়ে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন জোটের দখলে গেল মোট ৩৪টি ওয়ার্ড। ফলে ২১টি আসনের ম্যাজিক ফিগারের অনেকটাই উপরে থেকেই প্রথম নির্বাচিত পুরনিগম বোর্ড গঠনের পথে এগিয়ে গেল শাসক জোট।
এজিপি জিতেছে দু’টি ওয়ার্ড। কংগ্রেসের দখলে গিয়েছে দু’টি আসন এবং ছয়টি ওয়ার্ডে জয় পেয়েছেন নির্দল প্রার্থীরা।
মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে রামনগরের আইএসটিটি কমপ্লেক্সে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভোটগণনা শুরু হয়। সন্ধ্যার পর গণনা শেষ হয়। ভোটের আগেই ৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছিল বিজেপি।
বিজেপির জয়ী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ২ নম্বরে সৌরভ কুমার নাথ, ৩ নম্বরে ডলি দাস, ৪ নম্বরে শিবানী রানি দাস, ৫ নম্বরে দীপক দাস, ৬ নম্বরে কাঞ্চন দেব, ৭ নম্বরে রাধারানি রবিদাস এবং ৮ নম্বরে মহিতোষ মণ্ডল। ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির জেলা সংখ্যালঘু মোর্চার সভাপতি আতাউর রহমান লস্করও জয় পেয়েছেন।
এজিপির হয়ে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে সাবিনা ইয়াসমিন বড়ভূঁইয়া এবং ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে মিয়া খান জয়ী হয়েছেন।
কংগ্রেসের দুই জয়ী প্রার্থী হলেন ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের সাক্ষী বণিক এবং ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের রাজশ্রী গোয়ালা।
ছয় ওয়ার্ডে নির্দল চমক
প্রথম পুরনিগম নির্বাচনে নির্দল প্রার্থীরাও উল্লেখযোগ্য জায়গা করে নিয়েছেন। ছয়টি ওয়ার্ডে জয় পেয়েছেন তাঁরা।
১ নম্বরে হাশিম উদ্দিন বড়ভূঁইয়া, ১৯ নম্বরে ধ্রুবজ্যোতি দাস, ২৪ নম্বরে হানিফা বেগম, ২৫ নম্বরে লাভলি বেগম মজুমদার, ২৯ নম্বরে সম্পা দেব রায় ধর এবং ৪২ নম্বরে বিশ্বতোষ নাগ জয়ী হয়েছেন।
ফলে জোটের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতার পাশাপাশি প্রথম পুরভোটে ওয়ার্ডভিত্তিক স্থানীয় সমীকরণও সামনে এসেছে। ছয়টি ওয়ার্ডে নির্দলদের জয় সেই দিকটিই তুলে ধরেছে।
পুনর্গণনাতেও বদলায়নি ফল
২৯ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির পক্ষ থেকে পুনর্গণনার আবেদন করা হয়েছিল। পুনর্গণনার পরও ফল বদলায়নি। ২৯ নম্বরে সম্পা দেব রায় ধর এবং ৩০ নম্বরে সাক্ষী বণিক জয় ধরে রেখেছেন।
নির্বাচনী আধিকারিকদের মতে, পুনর্গণনায় সংশ্লিষ্ট জয়ী প্রার্থীদের পক্ষে অতিরিক্ত ভোট পাওয়া গেলেও ফল ঘোষণার সময় প্রথমে যে ব্যবধান ঘোষণা করা হয়েছিল, সরকারি ভাবে সেটিই বজায় থাকবে।
৪১ নম্বর ওয়ার্ডেও পুনর্গণনা চাওয়া হয়েছিল। সেখানে কংগ্রেসের রাজশ্রী গোয়ালাকে জয়ী ঘোষণা করার পর পুনর্গণনা হলেও আসনটি কংগ্রেসের হাতেই থাকে।
প্রথম পুরনিগম বোর্ডের সামনে নতুন দায়িত্ব
২০২২ সালে শিলচরকে পুরনিগমে উন্নীত করার পর এটাই ছিল প্রথম পুরনিগম নির্বাচন। ৪২ সদস্যের বোর্ডে বিজেপি-এজিপি জোটের ৩৪টি আসন পাওয়ায় প্রথম নির্বাচিত বোর্ড গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদের হাতে রয়েছে।
তবে প্রথম পুরনিগম বোর্ডের সামনে এখন মূল প্রশ্ন হবে নির্বাচনী সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কী ভাবে পুর পরিষেবা ও নাগরিক পরিকাঠামোর উন্নয়নে কাজে লাগানো যায়। জলনিকাশি, রাস্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানীয় জলের সমস্যা এবং দ্রুত নগরায়নের মতো বিষয় শিলচরের নাগরিক প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
প্রথম নির্বাচনের ফল তাই শুধু কোন দল কতটি ওয়ার্ড জিতল, তার হিসাব নয়। ৪২ ওয়ার্ডের নতুন পুরনিগমে দলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার পাশাপাশি নির্দল প্রার্থীদের ছয়টি জয়ও দেখিয়ে দিল, স্থানীয় প্রার্থী ও ওয়ার্ডভিত্তিক সমীকরণ এখনও গুরুত্বপূর্ণ।


