অসমে বানরদেরও জনগণনা

2 - মিনিট |

মানুষের পর এবার বানরদের পালা—কে কোথায় থাকে, কতজন আছে, কোথায় বেশি দাপট, সব হিসাব করবে বন দফতর

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

গুয়াহাটি: মানুষের ভোটার তালিকা, জনসংখ্যার হিসাব—এসব তো চলছেই। এবার অসমে বানরদেরও হিসাব নেওয়া হবে। কে কতজন, কোথায় থাকে, কোন এলাকায় বেশি দাপট—সব খতিয়ে দেখতে রাজ্যজুড়ে বানর গণনা করতে চলেছে বন দফতর।

তারপর? তারপর শুরু হতে পারে বানরদের ‘পরিবার পরিকল্পনা’।

সরকারি ভাষায় অবশ্য সেটি পাইলট নির্বীজকরণ কর্মসূচি। প্রথমে রাজ্যের মানুষ-বানর সংঘাতের হটস্পট চিহ্নিত করা হবে। তারপর বেছে নেওয়া কয়েকটি এলাকায় বানর নির্বীজকরণ করা হবে। পরীক্ষামূলক প্রকল্প সফল হলে সেটি আরও এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হতে পারে।

অর্থাৎ, আপাতত অসমের বানরদের জন্য নিয়মটা বেশ পরিষ্কার—আগে জনগণনায় নাম লেখাও, তারপর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করো।

হিমাচলে বানরদের ‘পরিবার ছোট’, অসমে এবার সেই পথ?

বানর নিয়ন্ত্রণের মডেল খুঁজতে সম্প্রতি অসমের একটি সরকারি প্রতিনিধি দল হিমাচল প্রদেশ ঘুরে এসেছে। সেখানে ২০০৬ সাল থেকে চলছে বানর নির্বীজকরণ কর্মসূচি।

হিমাচল বন দফতরের হিসাবে, এখনও পর্যন্ত ১.৮৬ লক্ষের বেশি বানর নির্বীজকরণ করা হয়েছে। বানর ধরতে পারলে প্রতি বানরের জন্য ৫০০ টাকা প্রণোদনাও রয়েছে। অর্থাৎ সেখানে বানর ধরাও এক ধরনের কর্মসংস্থান!

আটটি নির্বীজকরণ কেন্দ্রও রয়েছে রাজ্যে।

হিমাচলের দাবি, এই কর্মসূচির ফলে আনুমানিক ৮.৫ লক্ষ বানরের জন্ম রোধ করা সম্ভব হয়েছে। ২০০৪ সালে প্রায় ৩.১৭ লক্ষ থাকা ম্যাকাকের সংখ্যা ২০২০ সালে ১.৩৬ লক্ষে নেমেছে বলেও জানিয়েছে রাজ্য বন দফতর।

অসমের প্রতিনিধি দল এবার সেই মডেলই খতিয়ে দেখে ফিরেছে।

অসমে বানরদের সমস্যা যে বাস্তব, তা নিয়ে বিশেষ বিতর্ক নেই। গ্রামে ধানক্ষেত, সবজির জমি, কলাবাগান, পেঁপে—সবই তাদের নজরে।

কৃষকের চারা রোপণ শেষ হওয়ার অপেক্ষা যেন তাদের অভিধানে নেই। পাকা হওয়ার আগেই ফসলের সঙ্গে তাদের ‘সম্পর্ক’ তৈরি হয়ে যায়। বারবার হানায় কোথাও কোথাও কৃষকরা চাষ ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভাবছেন।

শহরের বানরদের আবার আলাদা জীবনধারা। বাড়ি, দোকান, অফিস, বাগান—সবই তাদের সম্ভাব্য ‘খাবারের দোকান’। কোথাও গাছ ভাঙছে, কোথাও তার ছিঁড়ছে, কোথাও মানুষ বা পোষ্যকে তাড়া করছে।

ফলে বন দফতরের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—অসমে মোট বানর কত?

আর তার পরের প্রশ্ন—তাদের মধ্যে কতজন ‘সমস্যাজনক নাগরিক’?

দুই কেন্দ্রে পরীক্ষামূলক ‘অপারেশন’

অসমের প্রতিনিধি দলের সদস্য বিধায়ক মৃণাল শইকিয়া জানিয়েছেন, প্রথম পর্যায়ে দুটি কেন্দ্রে বানর নির্বীজকরণ কর্মসূচি চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে তার আগে হবে গণনা। কোথায় কত বানর, কোথায় সংঘাত বেশি, কোন এলাকায় ফসলের ক্ষতি বেশি—সব তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

অর্থাৎ বন দফতর আপাতত বানরদের সঙ্গে সরাসরি ঝামেলায় যেতে চাইছে না। আগে তথ্য, তারপর সিদ্ধান্ত। সরকারি প্রশাসনের চেনা পদ্ধতি—ফাইল খুলবে, হিসাব হবে, তারপর বানরের ভাগ্য নির্ধারণ হবে।

প্রতিনিধি দলের আর একটি প্রস্তাব আরও চমকপ্রদ। যেসব রাজ্যে বানরের সংখ্যা খুব কম বা নেই, প্রয়োজনে সেখানে অসমের কিছু বানর পাঠানোর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হতে পারে।

অর্থাৎ অসমের বানরদের জন্য ভবিষ্যতে ‘অন্য রাজ্যে বদলি’ও হতে পারে!

রিসাস ম্যাকাক বা Macaca mulatta-র আইনি অবস্থানও ইতিমধ্যে বদলেছে। ২০২২ সালের বন্যপ্রাণী (সুরক্ষা) সংশোধনী আইনে তাদের ১৯৭২ সালের আইনের দ্বিতীয় তফসিল থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরিবর্তন কার্যকর হয় ২০২৩ সালের ১ এপ্রিল।

এবার বন দফতরই নির্বীজকরণ কর্মসূচির নেতৃত্ব দিতে পারে। কারণ বন্যপ্রাণী সামলানো এবং এ ধরনের কর্মসূচি পরিচালনার অভিজ্ঞতা তাদেরই বেশি।

তবে সরকার এখনও রাজ্যের সব বানরকে ধরে ফেলবে—এমন কোনও পরিকল্পনা নেয়নি। প্রথমে গণনা, তারপর হটস্পট, তারপর পাইলট প্রকল্প। ফল ভালো হলে তবেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *