বহু দশক পর বগিবিল থেকে বাংলাদেশে পণ্যবাহী জাহাজ, খুলল অসমের নতুন জলপথ

< 1 - মিনিট |

৫৪০ টন মিথানল নিয়ে বাংলাদেশের পাঙ্গাঁও বন্দরের পথে ‘পাটকাই’, দুই জাহাজে যাবে মোট ১,০৮০ টন পণ্য

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

ডিব্রুগড়: বহু দশকের অপেক্ষার অবসান। স্বাধীনতার পর এই প্রথম ডিব্রুগড় থেকে অন্তর্দেশীয় জলপথে আন্তর্জাতিক গন্তব্যের উদ্দেশে পণ্যবাহী জাহাজ যাত্রা শুরু করল। সোমবার বগিবিল নদীবন্দর থেকে ৫৪০ টন মিথানল নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছে পাটকাই।

ইনল্যান্ড ওয়াটারওয়েজ অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার (আইডব্লিউএআই) বগিবিল টার্মিনাল থেকে সকাল ১১টায় জাহাজটির যাত্রা শুরু হয়। অসম পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেডের (এপিএসিএল) উৎপাদিত মিথানল ২৭টি কনটেনারে বোঝাই করে নিয়ে যাচ্ছে পাটকাই।

জাহাজটির গন্তব্য বাংলাদেশের ঢাকার পাঙ্গাঁও বন্দর। ব্রহ্মপুত্র ও আন্তর্জাতিক নদীপথ ধরে প্রায় ৭৮৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে প্রায় সাত দিনে গন্তব্যে পৌঁছনোর কথা রয়েছে।

এই জলপথে শীঘ্রই আরও একটি পণ্যবাহী জাহাজ চলবে। দুটি জাহাজ মিলিয়ে অসম থেকে বাংলাদেশে মোট ১,০৮০ টন মিথানল পাঠানো হবে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বগিবিল থেকে জাহাজটির আনুষ্ঠানিক যাত্রার সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।

বগিবিল থেকে এই পণ্য পরিবহণকে শুধু একটি জাহাজের যাত্রা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। এর মাধ্যমে উচ্চ অসম থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি একটি বিকল্প পণ্য পরিবহণ করিডর তৈরি হল। ব্রহ্মপুত্র হয়ে বাংলাদেশের নদীপথে পৌঁছে এই রুট উত্তর-পূর্ব ভারতের পণ্যকে প্রতিবেশী দেশ এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

ডিব্রুগড়ের নদীপথে বাণিজ্যের অবশ্য দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ব্রিটিশ আমলে শহরটি থেকে নিয়মিত নৌযানে পণ্য পরিবহণ হত। মোহনাঘাটের কাছে একটি নদীবন্দরও ছিল। পরবর্তী সময়ে সড়ক ও রেল যোগাযোগের প্রসারের সঙ্গে নদীপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কমতে থাকে এবং একসময় তা বন্ধ হয়ে যায়।

বগিবিল থেকে ফের বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহণ শুরু হওয়ায় অসমের অভ্যন্তরীণ জলপথের অর্থনৈতিক গুরুত্ব নতুন করে বাড়তে পারে। একই সঙ্গে সড়ক ও রেলের পাশাপাশি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য একটি বিকল্প ও তুলনামূলক কার্যকর পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথও খুলল।

কেন্দ্র ও অসম সরকার উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে প্রতিবেশী দেশগুলিতে পণ্য পরিবহণ বাড়াতে অভ্যন্তরীণ জলপথ ব্যবহারে জোর দিচ্ছে। বগিবিল থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে পাটকাই-এর যাত্রা সেই বৃহত্তর যোগাযোগ ও বাণিজ্য পরিকল্পনারই গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *