মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে মিছিল; ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বন্ধ ও বাদ পড়া ১৩.৩০ কোটি নাম ফেরানোর দাবি বিরোধীদের
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
নয়াদিল্লি:ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদার করছে বিরোধীদের ইন্ডিয়া জোট। আগামী সোমবার, ১২ অক্টোবর, দিল্লিতে বড় মাপের প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছে জোট। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে ‘ভোট চুরি’ নিয়ে হস্তক্ষেপের আর্জি জানাবেন বিরোধী নেতাদের একটি প্রতিনিধি দল।
কংগ্রেসের তরফে এই কর্মসূচি ঘোষণার সময় রাজধানীতে ককোরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র ডাকা বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক ধরপাকড়ের ঘটনাও সামনে আসে। ওই বিক্ষোভে আটক হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সোমবারের কর্মসূচিতে যোগ দিতে দিল্লিতেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল নাগরিকদের এই আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশজুড়ে ‘ভোট চুরি’র মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করছে। এক্সে পোস্ট করে তিনি লেখেন, “জ্ঞানেশকে যেতেই হবে। আমরা পিছিয়ে আসব না।”
রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি, এবার প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ
শুক্রবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে ভোটার তালিকা নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন ইন্ডিয়া জোটের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল। বৈঠকের পর লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী জানান, সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করবেন বিরোধীরা এবং তাঁকে স্মারকলিপি দেবেন।
রাষ্ট্রপতির কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের পাশাপাশি ব্যালট পেপারে ভোট ফেরানোর দাবি জানিয়েছে বিরোধী জোট। ২০২৩ সালের আইনে নির্বাচন কমিশনারদের দায়বদ্ধতা সংক্রান্ত যে বিধান রয়েছে, তা বাতিলের দাবিও তোলা হয়েছে।
এ ছাড়া ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর অবিলম্বে বন্ধ করা এবং তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে বিরোধীদের দাবি, এমন ১৩.৩০ কোটি ভোটারের নাম পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে তারা। গত দু’বছরে হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে যেখানে ভোট চুরির অকাট্য প্রমাণ রয়েছে, সেখানে সেই নির্বাচন বাতিল করার দাবিও স্মারকলিপিতে রাখা হয়েছে।
তবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানেই বেআইনি ভাবে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে—বিরোধীদের এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নির্বাচন কমিশনের অবস্থান ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাইয়ের প্রশ্নও এই বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সোমবারের কর্মসূচিতে যোগ দেবেন মমতাও
সোমবারের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, রাহুল গান্ধী তাঁকে সুপ্রিম কোর্টের কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে বলেছেন। শনিবার দিল্লি ছেড়ে ফেরার পরিকল্পনা থাকলেও আটক হওয়ার ঘটনায় তাঁর যাত্রা ব্যাহত হয় বলে দাবি করেছেন তৃণমূল নেত্রী।
মমতা অভিযোগ করেন, তাঁকে এবং অন্য বিক্ষোভকারীদের ‘অপহরণ’ করে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছিল। তিনি জানান, এই পরিস্থিতির পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লিতে আসতে বারণ করেছেন, কারণ সোমবারের কর্মসূচিতে তিনি নিজেই উপস্থিত থাকবেন।
মমতার কথায়, গণতন্ত্র রক্ষা করতে হলে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। তাঁর বক্তব্য, গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন মাঝপথে ছেড়ে দেওয়া যায় না।
ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে মঙ্গলবার থেকেই দিল্লিতে ধারাবাহিক প্রতিবাদ চালাচ্ছেন বিরোধীরা। সংসদ থেকে নির্বাচন কমিশনের দফতর পর্যন্ত মিছিলের চেষ্টা আটকে দেয় পুলিশ। পরে রাহুল গান্ধী আকাশবাণী ভবন চত্বরে অবস্থান করেন। বুধবার ও বৃহস্পতিবারও যন্তর মন্তর ও রাজঘাট-সহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ দেখান বিরোধী সাংসদরা।
এখন সোমবারের মিছিল এবং প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করতে চাইছে ইন্ডিয়া জোট। নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের জবাব এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে স্বচ্ছতা—এই দুই প্রশ্নই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে।


