নেপালে বুড়ি গণ্ডকী নদীতে হড়পা বানে বিপর্যয়, নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হল গ্রামবাসীদের

< 1 - মিনিট |

গোরখা জেলায় নদীর জলে ভেসে গেল বাড়িঘর ও অন্যান্য কাঠামো; সতর্কতা জারি, এখনও হতাহতের খবর নেই

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

কাঠমান্ডু:নেপালের উত্তর-মধ্যাঞ্চলে বুড়ি গণ্ডকী নদীতে হড়পা বানে বিপর্যস্ত জনজীবন। নদীর জল ফুলেফেঁপে ওঠায় একাধিক জনবসতিতে বাড়িঘর ও অন্যান্য কাঠামো ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। বিপদ এড়াতে নদী তীরবর্তী গ্রামগুলি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। অন্য বাসিন্দাদেরও নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রবিবার সকাল পর্যন্ত হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। তবে পাহাড়ঘেরা এলাকায় ঠিক কতগুলি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। হড়পা বানের কারণও খতিয়ে দেখছেন দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের আধিকারিকেরা।

নদীর জলে ভেসে গেল বাড়িঘর

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, পাহাড়ের খাড়া ঢালের মাঝখান দিয়ে প্রবল বেগে বয়ে চলেছে নদী। তার স্রোতে ভেসে যাচ্ছে বাড়ি ও ছোট ছোট ঘর। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

সরকারি সতর্কবার্তার পর কাঠমান্ডু থেকে দেশের অন্য অঞ্চলে যাওয়ার সড়কপথের পাশে অবস্থিত আরুঘাট শহরেও বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে দাবি করা হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

বুড়ি গণ্ডকী নদী পরে ত্রিশূলী নদীতে মিশেছে। কাঠমান্ডুর কাছাকাছি গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের আশপাশে বসবাসকারী মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

আগের বন্যার ক্ষত এখনও তাজা

নেপাল এখনও আগস্টে নেপাল-চিন সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ বন্যার ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি। ওই বিপর্যয়ে ব্যাপক প্রাণহানি, নিখোঁজের ঘটনা এবং পরিকাঠামোর ক্ষতি হয়েছিল। বহু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি রাস্তা ও সেতু বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় প্রত্যন্ত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছনোও কঠিন হয়ে উঠেছিল।

নতুন করে বুড়ি গণ্ডকী নদীতে হড়পা বানের ঘটনায় পাহাড়ি এলাকার দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। নদীর জলস্তর ও আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে কর্তৃপক্ষ। বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে নিরাপদ এলাকায় সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিধি, আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি এবং বন্যার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে প্রশাসন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *