শিলচরের হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ পরিবারের

< 1 - মিনিট |

মৃত্যুর খবর দেরিতে জানানো এবং চিকিৎসার জন্য আনা রক্ত অব্যবহৃত অবস্থায় ফেলে দেওয়ার অভিযোগ; পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালে পৌঁছল পুলিশ

কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো

শিলচর: রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল শিলচরের সাউথ সিটি হাসপাতালে। চিকিৎসায় গাফিলতি, মৃত্যুর খবর জানাতে দেরি এবং চিকিৎসার জন্য পরিবারের আনা রক্তের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মৃতের পরিজনেরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ।

মৃতের নাম সামির উদ্দিন। কাছাড় জেলার কাশীপুরের বাসিন্দা ছিলেন তিনি।

পরিবারের অভিযোগ, সামিরের মৃত্যুর খবর তাঁদের সময়মতো জানানো হয়নি। বরং তাঁদের এমন ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে রোগী তখনও হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি রয়েছেন এবং তাঁর চিকিৎসা চলছে। পরে মৃত্যুর খবর জানার পর হাসপাতালের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। কেন এই তথ্য জানাতে দেরি হল, তার জবাব দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যেরা।

মৃতের পরিবারের আরও অভিযোগ, সামিরের চিকিৎসার জন্য রক্তের প্রয়োজন বলে হাসপাতালের তরফে তাঁদের জানানো হয়েছিল। সেই মতো রক্তের ব্যবস্থা করেন তাঁরা। কিন্তু পরে সেই রক্ত অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় এবং তা ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

রোগীর চিকিৎসায় রক্তের প্রয়োজন থাকলে তা কেন ব্যবহার করা হল না, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন তাঁরা। পাশাপাশি, রোগীর শারীরিক অবস্থা জানতে চাইলে হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষী ও কর্তৃপক্ষের একাংশ তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও ঘটনার ব্যাখ্যা দাবি করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছয়।

সামির উদ্দিনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, মৃত্যুর খবর দিতে দেরি হয়েছিল কি না এবং চিকিৎসার জন্য আনা রক্তের কী হয়েছিল—এই সমস্ত বিষয় নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যেরা।

তবে পরিবারের অভিযোগগুলি এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি। ফলে রোগীর মৃত্যুকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনও স্পষ্ট নয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *