শিয়াং জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ঘিরে বিক্ষোভে হিংসা বরদাস্ত নয়, আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি পেমা খান্ডুর

2 - মিনিট |

প্রাক্‌-সম্ভাব্যতা সমীক্ষার স্তরেই রয়েছে প্রকল্প, দাবি অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রীর; স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনায় রাজি সরকার, তবে আইন ভাঙলে ব্যবস্থা

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

ইটানগর:প্রস্তাবিত শিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্পের (এসইউএমপি) বিরোধিতায় বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে কড়া বার্তা দিলেন অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু। গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও তার আড়ালে হিংসা বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। প্রকল্পের বিরোধিতায় বিক্ষোভ চলাকালীন কয়েক জনকে আটক করার সিদ্ধান্তের পক্ষেও সওয়াল করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে খান্ডু বলেন, শিয়াং অঞ্চলের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাকে প্রকল্পটি সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রকল্পটি এখনও প্রাক্‌-সম্ভাব্যতা সমীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। এই প্রাথমিক মূল্যায়নের জন্য এখনই সমঝোতাপত্র বা এমওইউ স্বাক্ষরের প্রয়োজন নেই।

‘আগে সমীক্ষা, পরে সমঝোতাপত্র’

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, রাজ্যে অন্যান্য জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। প্রথমে প্রাক্‌-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করে প্রকল্পের উপযোগিতা যাচাই করা হয়। তার পর নির্ধারিত নিয়ম মেনে সমঝোতাপত্র-সহ পরবর্তী পদক্ষেপ করা হয়।

শিয়াং প্রকল্পের ক্ষেত্রেও প্রাক্‌-সম্ভাব্যতা রিপোর্ট বা পিএফআর তৈরির পর্যায় শেষ হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া এগোবে বলে জানিয়েছেন খান্ডু। তাঁর বক্তব্য, প্রাথমিক সমীক্ষাকে প্রকল্প নির্মাণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

তবে প্রকল্পের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। শিয়াং অঞ্চলের পরিবেশ, জনজীবন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন এলাকার বাসিন্দাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেই আন্দোলনে নেমেছেন তাঁরা।

‘হিংসার ঘটনায় আইনের মুখোমুখি হতে হবে’

বিক্ষোভ চলাকালীন যাঁদের আটক করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের প্রসঙ্গে খান্ডু বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। কারও পদ বা সামাজিক পরিচয় তাঁকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‘হিংসা বরদাস্ত করা হবে না’—এই বার্তার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, গণতান্ত্রিক অধিকার কাউকেই আইন অমান্য করার ছাড়পত্র দেয় না। তবে শান্তিপূর্ণভাবে প্রকল্পের বিরোধিতা করা এবং হিংসাত্মক কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগকে আলাদা করে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

আলোচনার দরজা খোলা, দাবি সরকারের

খান্ডু জানিয়েছেন, প্রকল্প নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনায় রাজি সরকার। এ বি কে এবং অল শিয়াং ইয়ুথ ইউনিয়ন (এএসইউ)-এর মতো সংগঠনগুলিকেও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে এবং মতবিরোধ মেটাতে আলোচনাকেই উপযুক্ত পথ বলে মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তবে প্রকল্প ঘিরে বিতর্ক এখনও থামেনি। একদিকে সরকারের দাবি, প্রক্রিয়াটি প্রাথমিক সমীক্ষার স্তরে রয়েছে; অন্যদিকে, স্থানীয়দের একাংশ প্রকল্পের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানাচ্ছেন। সেই উদ্বেগ কতটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় স্থানীয়দের মতামত কীভাবে জায়গা পাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

শিয়াং প্রকল্পকে ঘিরে পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের সামনে এখন দ্বৈত চ্যালেঞ্জ—আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং স্থানীয় মানুষের উদ্বেগের বিশ্বাসযোগ্য নিষ্পত্তি করা। সরকারের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা থাকলেও প্রকল্প নিয়ে বিরোধের স্থায়ী সমাধান নির্ভর করবে স্বচ্ছ তথ্য, স্থানীয় পরামর্শ এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতির উপর।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *