জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ: সিপিজের সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে ৫ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজত

2 - মিনিট |

নিষিদ্ধ বিক্ষোভস্থলে প্রবেশ ও শান্তি বজায় রাখার শর্ত ভাঙার অভিযোগে তিহাড় জেলে পাঠানো হল দুই নেতাকে; অজিঙ্ক্য শিন্দেকে ৬ মাস শান্তি ও সদাচরণ বজায় রাখার মুচলেকা

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

নয়াদিল্লি: দিল্লির জন্তর মন্তরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রবেশ এবং শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা ভাঙার অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিপিজে) দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। বুধবার তাঁদের তিহাড় জেলে পাঠানো হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। একই ঘটনায় দলের নেতা অজিঙ্ক্য শিন্দেকে ছ’মাস শান্তি ও সদাচরণ বজায় রাখার শর্তে ব্যক্তিগত মুচলেকা ও ৫ হাজার টাকার জামিনদারের শর্তে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্রের দাবি, মঙ্গলবার সকালে সৌরভ দাস, আশুতোষ রানকা, অজিঙ্ক্য শিন্দে-সহ সিপিজের ১৪ জন সদস্য ব্যক্তিগত জমির মধ্য দিয়ে জন্তর মন্তরে প্রবেশ করেন। সম্প্রতি এই এলাকাকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, তাঁরা ব্যারিকেডও অতিক্রম করেন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন।

নয়াদিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার সচিন শর্মা জানান, ১৪ জনকেই আটক করা হয়েছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, নিষেধাজ্ঞা অমান্য, শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা ভঙ্গ এবং সরকারি কর্মীকে কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগে দুটি মামলা দায়ের হয়েছে।

একটি মামলা কনট প্লেস থানায় এবং অন্যটি পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নথিভুক্ত হয়েছে। পরে সৌরভ, আশুতোষ ও অজিঙ্ক্যকে বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পেশ করা হয়। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১২৬ ও ১৭০ ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে প্রক্রিয়া শুরু হয়।

পুলিশের বক্তব্য, সৌরভ ও আশুতোষ আগেও শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা দিয়েছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে বারবার আইন ভাঙার অভিযোগ তুলে পুলিশ আশঙ্কা প্রকাশ করে, মুক্তি পেলে তাঁরা ফের একই ধরনের কাজ করতে পারেন এবং অন্যদেরও প্ররোচিত করতে পারেন। এই যুক্তিতেই তাঁদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ডেপুটি পুলিশ কমিশনার।

এর আগে শনিবার দিল্লিতে একটি বিক্ষোভের সময় আটক হওয়ার পর সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকা এক বছরের জন্য শান্তি বজায় রাখার মুচলেকায় সই করেছিলেন বলে পুলিশ সূত্রের দাবি।

দুই নেতার হেফাজতের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন সিপিজের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। সমাজমাধ্যমে তিনি অভিযোগ করেন, ভিন্নমত দমন করতে সরকার পুলিশি ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। তাঁর দাবি, জন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করাই সৌরভ ও আশুতোষের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কারণ। তবে এটি দীপকের বক্তব্য; পুলিশের অভিযোগের বিষয়ে আদালতের প্রক্রিয়া চলছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সিপিজে-সহ একাধিক সংগঠন দিল্লিতে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই জন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

গত ১১ অক্টোবর দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড এবং সিবিডি গ্রাউন্ডকে বিক্ষোভ ও সমাবেশের বিকল্প স্থান হিসেবে নির্ধারণ করেন। এরপর জন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। সিপিজের অভিযোগ, রাজধানীর রাজনৈতিক কেন্দ্র থেকে বিক্ষোভ সরিয়ে দিলে প্রতিবাদের দৃশ্যমানতা কমবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *