বন্যপ্রাণ সপ্তাহের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে দুই প্রকল্পের সূচনা রাজ্যপাল অজয় কুমার ভাল্লার; উদ্ধার হওয়া বন্যপ্রাণীদের চারটি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ছাড়ার পাশাপাশি জলাভূমি পুনরুদ্ধার ও পাচার রুখতে জোর
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
ইম্ফল:বিপন্ন বন্যপ্রাণী ও রাজ্যের ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় প্রশাসন, সংরক্ষণকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত উদ্যোগের উপর জোর দিলেন মণিপুরের রাজ্যপাল অজয় কুমার ভাল্লা। মঙ্গলবার ইম্ফলের সিটি কনভেনশন সেন্টারে ৭২তম বন্যপ্রাণ সপ্তাহের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে তিনি মণিপুর মেঘলা চিতাবাঘ সংরক্ষণ প্রকল্প এবং মণিপুর শকুন সংরক্ষণ প্রকল্পের সূচনা করেন।
‘আবাসস্থলের সংযোগ, বন্যপ্রাণীর সমৃদ্ধি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। এ বছর মণিপুর জুলজিক্যাল গার্ডেনেরও ৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী লোসি দিখো।
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া বন্যপ্রাণীদের ইয়ারালপাত, নংমাইচিং, হেইনগাং ও বিষ্ণুপুর সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ছেড়ে দেন রাজ্যপাল। পাশাপাশি প্রকাশিত হয় বার্ডস অব ল্যাংগোল রিজার্ভ ফরেস্ট: আ রেকনার এবং মাহৌশাগি মাইথং নামে দুটি প্রকাশনা। পরিবেশ সংরক্ষণে সাধারণ মানুষের দায়িত্ব ও অংশগ্রহণ বাড়াতে একটি জনসচেতনতামূলক প্রচারও শুরু করা হয়।
উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের ভারসাম্য
রাজ্যপাল বলেন, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে বাধা হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য, জীববৈচিত্র্য জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা, জলনিরাপত্তা বজায় রাখা এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্য পূরণেও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বন্যপ্রাণী পাচার বন্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ এবং গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি পুনরুদ্ধারের উপরও জোর দেন ভাল্লা। তরুণ প্রজন্মকে স্থানীয় স্তরে সংরক্ষণমূলক কাজে অংশ নেওয়া এবং বন্যপ্রাণীর তথ্য নথিবদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।
সাংগাই ও আমুর ফ্যালকন রক্ষায় গুরুত্ব
উপমুখ্যমন্ত্রী লোসি দিখো বন দফতরের সামনের সারির কর্মীদের অবদানের প্রশংসা করেন। মণিপুরের পরিচিত বন্যপ্রাণী সাংগাই হরিণ এবং আমুর ফ্যালকন-সহ বিভিন্ন প্রজাতি রক্ষায় আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
দিখোর মতে, বনাঞ্চলে নজরদারি বাড়ানো এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সংরক্ষণের কাজে যুক্ত করা জরুরি। এতে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত কমানোর পাশাপাশি সহাবস্থানের পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
মণিপুরের বনাঞ্চল, জলাভূমি ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষায় সরকারি দফতর, সংরক্ষণ সংস্থা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাই উঠে এসেছে বন্যপ্রাণ সপ্তাহের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে। নতুন দুই প্রকল্পের বাস্তবায়ন বিপন্ন প্রজাতির সংরক্ষণে কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ের কাজ, নিয়মিত নজরদারি এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণের উপর।


