২০১৮-র ‘বিজেপি আইটি সেল’ ভিডিও মামলা: ধ্রুব রাঠিকে সমন দিল দিল্লির আদালত

2 - মিনিট |

মানহানির মামলায় ১৭ অক্টোবর পরবর্তী শুনানি; ভিডিওটি শেয়ার করায় অরবিন্দ কেজরীবালের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছিল, ২০২৪ সালে তাঁর বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

নয়াদিল্লি,: ২০১৮ সালে ‘বিজেপি আইটি সেল পার্ট ২’ শীর্ষক একটি ভিডিও প্রকাশকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মানহানির মামলায় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে নতুন করে সমন পাঠাল দিল্লির একটি আদালত। অভিযোগকারী বিকাশ পাণ্ডের দায়ের করা মামলায় ১২ অক্টোবর সাকেত জেলা আদালতের বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট রাহুল জৈন এই নির্দেশ দেন। আগামী ১৭ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানি।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, রাঠির গুরুগ্রামের বাড়িতে সমন পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সাধারণত অস্ট্রিয়ায় থাকেন রাঠি। তবে দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিপিজে) বিক্ষোভে যোগ দিতে তিনি ভারতে এসেছেন বলে আদালতে জানান অভিযোগকারীর আইনজীবী সমক্ষ শর্মা। দ্রুত সমন জারির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেই তিনি আদালতের কাছে নতুন করে সমন পাঠানোর আবেদন করেন।

ভিডিও ঘিরে কী অভিযোগ?

সমাজমাধ্যমের ‘আই সাপোর্ট নরেন্দ্র মোদী’ পেজের প্রতিষ্ঠাতা বিকাশ পাণ্ডের অভিযোগ, রাঠির ভিডিওতে তাঁকে বিজেপির আইটি সেলের সদস্য হিসেবে দেখানো হয়েছিল। পাশাপাশি, ওই সংগঠন ভুয়ো খবর ছড়ায়—এমন অভিযোগ প্রত্যাহার করানোর জন্য মহাবীর প্রসাদ নামে এক ব্যক্তিকে মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ৫০ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব তিনি দিয়েছিলেন বলে ভিডিওতে দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ পাণ্ডের।

এই বক্তব্যের কারণে তাঁর সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে দাবি করে ২০১৮ সালে ফৌজদারি মানহানির মামলা করেন পাণ্ডে। মামলাটি এখনও বিচারাধীন। অভিযোগগুলি আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, এমন কোনও সিদ্ধান্তের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

কেজরীবালের বিরুদ্ধেও মামলা

ভিডিওটি তৎকালীন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী তথা আম আদমি পার্টির আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরীবাল এক্সে—তৎকালীন টুইটারে—শেয়ার করেছিলেন। সেই কারণে তাঁর বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করেন পাণ্ডে।

কেজরীবালের বিরুদ্ধে জারি হওয়া সমন খারিজ করতে দিল্লি হাইকোর্ট অস্বীকার করেছিল। বিচারপতি স্বর্ণকান্তা শর্মা পর্যবেক্ষণে বলেছিলেন, কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বিপুল সমাজমাধ্যম-অনুসারীর কারণে তাঁর রিটুইটের ব্যাপক প্রচার হতে পারে এবং তা জনসমক্ষে সমর্থন বা স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এর পর হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যান কেজরীবাল। ২০২৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি সঞ্জীব খান্না ও বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের বেঞ্চ তাঁর বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দেয়। শুনানিতে কেজরীবালের আইনজীবী বলেছিলেন, রিটুইট করে তিনি ভুল করেছিলেন। তবে রাঠির বিরুদ্ধে মামলা চলতে থাকে।

বিক্ষোভে যোগ দেওয়া ঘিরেও বিতর্ক

সম্প্রতি দিল্লির জন্তর মন্তরে সিপিজের ডাকা বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগে ১০ অক্টোবর গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে রাঠিকে আটক করেছিল পুলিশ। দিল্লিতে বিক্ষোভের অনুমতি না থাকার কথা জানিয়ে পুলিশ পদক্ষেপটিকে প্রতিরোধমূলক বলে ব্যাখ্যা করেছিল। ভোটার তালিকায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ওই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল। এর দু’দিন আগে বেঙ্গালুরুতে সিপিজের একটি কর্মসূচিতেও যোগ দিয়েছিলেন রাঠি।

বুধবার ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে রাঠি আরও অভিযোগ করেন, গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে বেরোনোর পর সাদা পোশাকের পুলিশকর্মীরা তাঁকে অচিহ্নিত গাড়িতে অনুসরণ করেন। তাঁর দাবি, ১৬ অক্টোবর জন্তর মন্তরে পরিকল্পিত পরবর্তী বিক্ষোভে গেলে তাঁকে ফের আটক করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের কোনও প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

মানহানির মামলার পরবর্তী শুনানি ১৭ অক্টোবর। আদালতে রাঠির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি এখনও হয়নি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *