‘চাপে নিরাপত্তানীতি বদলাবে না ভারত’, স্টারলিঙ্ক বিতর্কে মাস্ককে নিশিকান্ত দুবের পাল্টা

2 - মিনিট |

বাণিজ্যিক স্বার্থের চেয়ে জাতীয় নিরাপত্তাই অগ্রাধিকার, মন্তব্য বিজেপি সাংসদের; ভারতে পরিষেবা চালুর আগে তিন সংস্থারই নিরাপত্তা ছাড়পত্রের অপেক্ষা

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

নয়াদিল্লি:স্টারলিঙ্কের ভারতে বাণিজ্যিক পরিষেবা চালুর অনুমোদন নিয়ে ইলন মাস্কের সঙ্গে সংঘাত আরও তীব্র হল। স্পেসএক্সের প্রধানের অভিযোগ ও সমালোচনার জবাবে বিজেপি সাংসদ তথা সংসদের তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত কমিটির চেয়ারম্যান নিশিকান্ত দুবে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কোনও চাপের মুখেই ভারতের নিরাপত্তানীতি বদলাবে না। বাণিজ্যিক স্বার্থের চেয়ে জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

রবিবার সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ মাস্ককে জবাব দিতে গিয়ে দুবে বলেন, স্টারলিঙ্ককে ঘিরে দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির উদ্বেগ ও চ্যালেঞ্জগুলি সংসদীয় কমিটির নজরে এসেছে। তাঁর বক্তব্য, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলি এই বিষয়ে উদ্বিগ্ন।

দুবে আরও দাবি করেন, ২০১৩-১৪ সালেই মনমোহন সিংয়ের সরকার টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা ট্রাইকে এ ধরনের সম্ভাব্য বিপদের কথা জানিয়েছিল। যদিও এই দাবির বিস্তারিত ব্যাখ্যা তিনি তাঁর পোস্টে দেননি।

‘আগে নিজের দেশের গরিবদের সস্তায় সংযোগ দিন’

মাস্ককে নিশানা করে দুবে লেখেন, ভারত একটি সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক দেশ। সমাজমাধ্যমের চাপ কিংবা অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে দেশের নিরাপত্তানীতিতে বদল আনা হবে না। তাঁর কথায়, বাণিজ্যিক লাভই যদি একমাত্র বিবেচ্য হত, তা হলে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির আপত্তি সত্ত্বেও স্টারলিঙ্ককে স্বাগত জানানো যেত।

মাস্ককে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, ভারতে অভিযোগ তোলার আগে নিজের দেশ আমেরিকার দরিদ্র মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে সংযোগ পৌঁছে দেওয়া উচিত।

দুবে-র এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ভারতের বাজারে স্টারলিঙ্কের প্রবেশ নিয়ে মাস্কের সঙ্গে দেশের টেলিকম সংস্থাগুলির প্রতিযোগিতা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধি নিয়ে বিতর্ক চলছে।

প্রতিযোগিতায় গ্রাহকদের লাভ হবে, দাবি মাস্কের

শনিবার সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে মাস্ক দাবি করেন, স্টারলিঙ্ক ভারতে পরিষেবা শুরু করতে পারলে গ্রাহকেরা আরও বেশি বিকল্প পাবেন। রিলায়েন্স কর্তা মুকেশ আম্বানির সংস্থার স্বল্পমূল্যের পরিষেবার যুক্তি তুলে ধরে স্টারলিঙ্কের প্রবেশ আটকানোর চেষ্টাকেও কটাক্ষ করেন তিনি।

মাস্কের যুক্তি, স্টারলিঙ্কের পরিষেবার দাম বেশি হলে ভারতীয় গ্রাহকেরা তা কিনবেন না। ফলে এ দেশে পরিষেবা চালু করতে হলে সংস্থাকে সাশ্রয়ী মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। প্রতিযোগিতা বাড়লে বাজারের বর্তমান সংস্থাগুলির মুনাফা কমতে পারে, কিন্তু তাতে তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে—এমনটা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভারতে স্টারলিঙ্কের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে মাস্ক এর আগেও প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। তবে এই অভিযোগের বিরোধিতা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

একই প্রক্রিয়ায় তিন সংস্থা, জানাল কেন্দ্র

৮ অক্টোবর কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রক জানায়, ভারতে স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবার অনুমোদন দেওয়ার নিয়ম স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন। স্টারলিঙ্ক-সহ তিনটি সংস্থাকে স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগ পরিষেবার জন্য লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। বাকি দুটি হল জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস এবং ওয়ানওয়েব ইন্ডিয়া।

মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, তিনটি সংস্থারই নিরাপত্তা সংক্রান্ত মূল্যায়ন চলছে। সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থা স্পেকট্রাম বরাদ্দের জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ করতে পারবে। বর্তমানে তিনটি সংস্থাই মোটামুটি একই নিয়ন্ত্রক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।

অর্থাৎ, লাইসেন্স পেলেই ভারতে বাণিজ্যিক পরিষেবা চালুর অনুমতি মিলছে না। জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্ত পূরণ এবং স্পেকট্রাম বরাদ্দের প্রক্রিয়া এখনও বাকি। এই অনুমোদন ঘিরেই এক দিকে মাস্কের প্রতিযোগিতার দাবি, অন্য দিকে কেন্দ্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত অবস্থান—দুইয়ের সংঘাত ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *