শান্তিপূর্ণ জমায়েতে বেআইনি আটক নয়, দিল্লিতে মেট্রো স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

2 - মিনিট |

বিক্ষোভ ঘিরে বিধিনিষেধ নিয়ে কেন্দ্রকে নোটিস শীর্ষ আদালতের; ইন্টারনেট পরিষেবা সচল রাখা এবং আইনজীবী-সাংবাদিকদের কাজে বাধা না দেওয়ার নির্দেশ

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

নয়াদিল্লি: দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক ধরপাকড় ও পরিবহণে বিধিনিষেধ নিয়ে ফের কেন্দ্রকে সতর্ক করল সুপ্রিম কোর্ট। শান্তিপূর্ণভাবে জমায়েত হওয়া মানুষকে যাতে বেআইনিভাবে আটক করা না হয়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। একই সঙ্গে দিল্লি মেট্রোকে স্বাভাবিক সময়সূচি মেনে চালানোর এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে ইন্টারনেট পরিষেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছে আদালত।

রবিবার জরুরি শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ কেন্দ্রের উদ্দেশে নোটিস জারি করে। ৯ অক্টোবর মেট্রো ও রেল পরিষেবায় বিধিনিষেধ নিয়ে আদালতের দেওয়া নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে বলে যে অবমাননার অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়েই এই পদক্ষেপ। শনিবার ককোরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক ধরপাকড়ের পর জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আয়োজন করা হয়।

সাত হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী আটক?

আবেদনকারীদের অভিযোগ, ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভ চলাকালীন বিপুল সংখ্যক মানুষকে বেআইনিভাবে আটক করা হয়েছে। মেট্রো পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে, নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন রেলস্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং যান চলাচল নিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

শনিবার দিল্লিতে নিরাপত্তা অভিযানের মধ্যে ৭,০০০-এরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে, বিরোধী দলের কয়েক জন নেতা এবং ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিও ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

আবেদনকারীদের আরও অভিযোগ, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা এলাকার বাইরেও মানুষকে আটক ও হয়রানি করা হয়েছে। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে এবং প্রত্যেকের ক্ষেত্রে কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

‘স্বাভাবিক সময়সূচিতে মেট্রো চালাতে হবে’

কেন্দ্রের হয়ে আদালতে উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে মেট্রো পরিষেবা স্বাভাবিক সময়সূচি মেনে চালানো নিশ্চিত করার কথা বলেছে বেঞ্চ। আইনজীবী, সাংবাদিক এবং অন্য পেশার মানুষ যাতে তাঁদের কাজ করতে গিয়ে বাধার মুখে না পড়েন, সে বিষয়েও নজর দিতে বলা হয়েছে।

শুনানিতে মেহতা জানান, শনিবার দিল্লি মেট্রোর মোট ৩০৩টি স্টেশনের মধ্যে মাত্র ৪৫টিতে প্রবেশ ও প্রস্থানের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। এর আগে আদালতে পেশ হওয়া আবেদনে ৫৭টি স্টেশনের গেট বন্ধ রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

৯ অক্টোবরের নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করে নিয়ন্ত্রিতভাবে মেট্রো ও রেল পরিষেবা চালু রাখার কথা বলেছিল। সেই নির্দেশ কার্যকর হয়েছে কি না, তা নিয়েই রবিবারের অবমাননার আবেদন।

রাজনৈতিক নেতাদের আটক নিয়ে হেবিয়াস কর্পাস আবেদন

শুনানিতে প্রবীণ আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীর দায়ের করা হেবিয়াস কর্পাস আবেদনও গ্রহণ করে আদালত। রাজনৈতিক নেতাদের আটক রাখার বৈধতা নিয়ে এই আবেদন করা হয়েছে।

অবমাননার মামলাটি দায়ের করেছেন আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন, দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার এবং দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনের চেয়ারপার্সন ডি তারাকে মামলায় উত্তরদাতা করা হয়েছে।

বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে—নির্বাচন কমিশনের কাজকর্মে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে। সেই বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরিবহণে বিধিনিষেধ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই আদালতের নতুন নির্দেশ এল।

শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার এবং জনজীবন সচল রাখার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন আদালতের নির্দেশের মূল কথা। তবে অবমাননার অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও হয়নি; কেন্দ্রের জবাব এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের পর মামলার পরবর্তী গতিপ্রকৃতি স্পষ্ট হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *