পিএনবি আরসেটির উদ্যোগে কৃষি-উদ্যমী প্রশিক্ষণ শিবিরের সমাপ্তি

2 - মিনিট |

ডা. রাহুল চক্রবর্তী বলেন, “কৃষি এখন আর কেবল প্রথাগত চাষাবাদে সীমাবদ্ধ নেই, এটি বর্তমানে একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক ক্ষেত্র

কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো

শিলচর : বরাক উপত্যকার কৃষি অর্থনীতিতে প্রাণসঞ্চার এবং বেকার যুবক-যুবতীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্য নিয়ে বড়সড় পদক্ষেপ নিল পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক পরিচালিত ‘পিএনবি আরসেটি’ (কাছাড়)। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রকের ‘স্কিল এন্টারপ্রিনিওরশিপ’ প্রকল্পের অধীনে সম্প্রতি শিলচরে সফলভাবে সম্পন্ন হলো ৩৩ জন নবীন কৃষি উদ্যমীর ১৩ দিনের বিশেষ আবাসিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। মঙ্গলবার শিলচরের ডিআরডিএ (DRDA) ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ‘এন্টারপ্রিনিওরশিপ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’-এর আনুষ্ঠানিক সমাপনী ঘোষণা করা হয়।

এদিনের সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি আধিকারিক ডা. রাহুল চক্রবর্তী, উদ্যানপালন বিভাগের এসডিএও ডা. নিখিল চন্দ্র দাস, এলডিএম (কাছাড়) বিপ্রজিত দত্ত, জেলা মৎস্য বিভাগের ডিএফডিও (ইনচার্জ) বিরাজ বিকাশ শর্মা এবং পিএনবি আরসেটির অধিকর্তা অরুণজ্যোতি দে। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র ফ্যাকাল্টি তথা কোর্স কো-অর্ডিনেটর শাহেদ চৌধুরী সহ অন্যান্য আধিকারিকবৃন্দ।

কৃষি ও পশুপালন ভিত্তিক এই নিবিড় প্রশিক্ষণে বিশেষজ্ঞ হিসেবে ‘ডোমেন স্কিল’ প্রদান করেন ডা. নিখিল চন্দ্র দাস, ডা. রুবেল দাস, ডা. লক্ষজ্যোতি কাকতি, ভেটেরিনারি বিভাগের যুগ্ম অধিকর্তা ডা. মনোরঞ্জন সরকার এবং মৎস্য বিভাগের এসডিও বিরাজ বিকাশ শর্মা।

কৃষিভিত্তিক স্টার্টআপ ‘গ্রেজুয়েট ফার্মার্স’-এর অধিকর্তা বাপন দাস প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে-কলমে বাস্তব অভিজ্ঞতার পাঠ দেন। অন্যদিকে, ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনা বা ‘ইডিপি স্কিল’-এর ওপর আলোকপাত করেন আরসেটির অধিকর্তা অরুণজ্যোতি দে, শাহেদ চৌধুরী এবং প্রাক্তন এলডিএম এস. এস. দেবরায়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা কৃষি আধিকারিক ডা. রাহুল চক্রবর্তী বলেন, “কৃষি এখন আর কেবল প্রথাগত চাষাবাদে সীমাবদ্ধ নেই, এটি বর্তমানে একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক ক্ষেত্র। সঠিক পরিকল্পনা ও উন্নত বাজার সংযোগের মাধ্যমেই এই ক্ষেত্রে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।”

আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে যুবসমাজকে লাভজনক উদ্যোগ গড়ে তোলার আহ্বান জানান ডা. নিখিল চন্দ্র দাস। মৎস্য ও সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে বিরাজ বিকাশ শর্মা বলেন, পশুপালন ও মৎস্য চাষকে কৃষির সঙ্গে যুক্ত করলে আয়ের উৎস বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

আরসেটির অধিকর্তা অরুণজ্যোতি দে প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কেবল প্রশিক্ষণ গ্রহণই যথেষ্ট নয়, অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে। নতুন উদ্যোগ শুরু করার ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণের জন্য ‘প্রধানমন্ত্রী কর্মসংস্থান সৃজন কর্মসূচি’র (PMEGP) অধীনে আবেদন করার পরামর্শ দেন তিনি। সিনিয়র ফ্যাকাল্টি শাহেদ চৌধুরী এই কর্মসূচি সফল করতে জেলা কৃষি, মৎস্য ও পশুপালন বিভাগের সক্রিয় সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সফল উদ্যোক্তা হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় পরিলক্ষিত হয়। তাঁরা এনআরএলএম (NRLM), পিএনবি আরসেটি এবং কৃষি বিভাগসহ সকল সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related news