স্মার্ট মিটারের নামে শোষণের অভিযোগ; মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে স্মারকপত্র প্রদান
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
শিলচর। রাজ্যের বিদ্যুৎ খণ্ডকে বেসরকারিকরণের চক্রান্ত রুখতে এবং সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠল শিলচর। অল আসাম ইলেকট্রিসিটি কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্যব্যাপী প্রতিবাদী কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে সোমবার শিলচরের পানপট্টিস্থিত এপিডিসিএল (APDCL) কার্যালয়ের সামনে এক বিশাল বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়।
সংগঠনের কাছাড় জেলা কো-অর্ডিনেশন কমিটির আহ্বানে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শত শত গ্রাহক উপস্থিত হয়ে বর্তমান বিদ্যুৎ নীতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কমিটির উপদেষ্টা নির্মল কুমার দাস, সহ-সভাপতি মধুসূদন কর, সম্পাদক অতনু ভট্টাচার্য এবং রাজ্য শাখার অন্যতম আহ্বায়ক হিল্লোল ভট্টাচার্য রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। তাঁদের অভিযোগ, জনকল্যাণকামী বিদ্যুৎ পরিষেবাকে পরিকল্পিতভাবে পুঁজিপতিদের হাতে তুলে দেওয়ার নীল নকশা তৈরি হয়েছে।
এরই অংশ হিসেবে ২০২২ সাল থেকে গ্রাহকদের ওপর জোরপূর্বক প্রিপেইড স্মার্ট মিটার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন অসংখ্য মিটার রিডারের কর্মসংস্থান আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ পরিষেবা তার জনমুখী চরিত্র হারিয়ে স্রেফ মুনাফা অর্জনের এক ব্যবসায়িক পণ্যে পরিণত হয়েছে।
আন্দোলনকারীরা আরও অভিযোগ করেন, স্মার্ট মিটার ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাহকদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে মিটারের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া হয়েছে তৃতীয় পক্ষের হাতে। ফলে বিদ্যুৎ বিলের বোঝা আগের তুলনায় অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি যারা এই মিটার বসাতে অনীহা দেখাচ্ছেন, তাঁদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অতিরিক্ত ‘অ্যাভারেজ বিল’ পাঠানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
সমাবেশে দিল্লি, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা ও বিহারের উদাহরণ টেনে বক্তারা দাবি করেন, আসামেও সাধারণ গ্রাহকদের জন্য প্রতি মাসে ১২৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিনামূল্যে প্রদান করতে হবে। এছাড়া, বিগত অর্থবর্ষে এপিডিসিএল যে ৪০০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে, তার সুফল সাধারণ গ্রাহকদের দিতে এবং আনুপাতিক হারে বিদ্যুৎ মাশুল কমানোর জোর সওয়াল করেন তাঁরা।
তাঁদের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য দাবির মধ্যে রয়েছে— গ্রাহক-বিরোধী ‘বিদ্যুৎ সংশোধনী বিল ২০২৫’ বাতিল করা, প্রতিটি ডিভিশন ও সাব-ডিভিশনে স্বচ্ছ ‘সিজিআরএফ’ (CGRF) গঠন এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় দ্রুত উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।
কর্মসূচি শেষে সংগঠনের প্রতিনিধিরা এজিএম-এর মাধ্যমে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে একটি স্মারকপত্র প্রেরণ করেন। এদিনের প্রতিবাদী সমাবেশে জেলা কমিটির সদস্য মানস দাস, অধ্যাপক অজয় রায়, ভবতোষ চক্রবর্তী, মাখন পাল, দীলিপ নাথ, পরিতোষ ভট্টাচার্য, খাদেজা লস্কর, মোহন লাল মালা, দীলিপ কালোয়ারসহ আরও অনেক সচেতন নাগরিক ও কর্মী উপস্থিত ছিলেন। সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামীতে এই আন্দোলন আরও বৃহত্তর রূপ নিতে পারে।



