রোশিবিনার বাবা নাওরেম দামু সিংহও মেয়ের পারফরম্যান্সে গর্বিত। তাঁর আক্ষেপ, মেয়ের লক্ষ্য ছিল এবার সোনা জয়। শেষ পর্যন্ত রুপো পেলেও দেশের হয়ে পদক জেতায় তিনি খুশি।
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
ইম্ফল:শরীর ভালো ছিল না। ফ্লু নিয়েই জাপানের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন মণিপুরের উশু তারকা রোশিবিনা দেবী। তবু প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়াননি। শেষ পর্যন্ত ৬০ কেজি সান্দা বিভাগে রুপোর পদক জিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন তিনি। চীনের ঝাং শিয়াওউয়ের কাছে ০-২ ব্যবধানে হেরে সোনা হাতছাড়া হলেও, টানা তিনটি এশিয়ান গেমসে পদক জয়ের নজির গড়েছেন রোশিবিনা।
মেয়ের পদক জয়ের পর ইম্ফলে তাঁর মা নাওরেম ওংবি রোমিলা দেবীর কথাতেই উঠে এল সেই লড়াইয়ের ছবি। তিনি জানান, জাপানে যাওয়ার সময়ও ফ্লুতে ভুগছিলেন রোশিবিনা। তা সত্ত্বেও প্রতিযোগিতায় নামার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসেননি।
রোমিলা বলেন, সোনা না পাওয়ায় একজন মা হিসেবে তাঁর আক্ষেপ রয়েছে। তবে মেয়েকে আরও কষ্ট দিতে চান না তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘ও যখন জাপানে গিয়েছিল, তখন ফ্লুতে ভুগছিল। তারপরও প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে।’’
রোশিবিনার বাবা নাওরেম দামু সিংহও মেয়ের পারফরম্যান্সে গর্বিত। তাঁর আক্ষেপ, মেয়ের লক্ষ্য ছিল এবার সোনা জয়। শেষ পর্যন্ত রুপো পেলেও দেশের হয়ে পদক জেতায় তিনি খুশি।
রোশিবিনার এই রুপো এশিয়ান গেমসে তাঁর তৃতীয় পদক। ২০১৮ সালের এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ এবং ২০২২ সালের হাংঝৌ এশিয়ান গেমসে রুপো জিতেছিলেন তিনি। এবারও রুপো জিতে প্রথম ভারতীয় মহিলা উশু খেলোয়াড় হিসেবে টানা তিনটি এশিয়ান গেমসে পদক জয়ের নজির গড়লেন।
এবারের প্রতিযোগিতাতেও শুরু থেকেই ছন্দে ছিলেন রোশিবিনা। ভিয়েতনামের ২০২৩ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নুগুয়েন থি থু থুইকে হারানোর পর সেমিফাইনালে ইন্দোনেশিয়ার থানিয়া কুসুমানিংত্যাসকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠেন তিনি। তবে সোনার লড়াইয়ে চীনের ঝাং শিয়াওউয়ের বিরুদ্ধে দুই রাউন্ডেই ০-৫ ব্যবধানে হারতে হয় তাঁকে।
রুপো নিয়েই দেশে ফিরবেন রোশিবিনা। কিন্তু মণিপুরের এই খেলোয়াড়ের জন্য পদকের পাশাপাশি থেকে যাবে আরও একটি পরিচয়—অসুস্থ শরীর নিয়েও প্রতিযোগিতার মঞ্চে দাঁড়িয়ে লড়াই শেষ করার গল্প।


