মানবাধিকার ও শিশু সুরক্ষা সংগঠনগুলি দ্রুত বিচার ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে
অজিত দাস
শিলচর : অ্যাসিড হামলার হুমকি দিয়ে নাবালিকা স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে অবশেষে গ্রেফতার হল মূল অভিযুক্ত। কাছাড় জেলার ছোটদুধপাতিল গ্রামে ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরকে সোমবার কুম্বিরগ্রাম বিমানবন্দরের কাছে আটক করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত এতদিন গোয়ায় লুকিয়ে ছিল এবং সেখান থেকে ফিরে আসার পরই তাকে গ্রেফতার করা হয়।
কাছাড়ের পুলিশ সুপার জানান, পার্থ প্রতিম দাস জানিয়েছেন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) ও পকসো আইনের একাধিক ধারায় মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ধর্ষণের অভিযোগও রয়েছে। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে তোলা হবে।
উল্লেখ্য, এই মামলায় অভিযুক্তের বাবা, রমাকান্ত বিশ্বাসেকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি একজন ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় প্রচারক বলে পুলিশ জানিয়েছে। অভিযোগ, তিনি তাঁর ছেলের অপরাধে মদত দিয়েছিলেন এবং নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবারকে হুমকিও দিয়েছিলেন।
ডিসেম্বর ১৫ তারিখে ১৬ বছরের ওই স্কুলছাত্রী মালুগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগে সে জানায়, অভিযুক্ত প্রথমে তাঁকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়, যা সে প্রত্যাখ্যান করে। পরে ভালো ব্যবহার করে বন্ধুত্বের কথা বলে যোগাযোগ বাড়ায় অভিযুক্ত। নির্যাতিতার বয়ান, “এক সময় সে আমার উপর ঘনিষ্ঠ হওয়ার জন্য চাপ দিতে শুরু করে। আমাকে হোটেলে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। আমি রাজি না হওয়ায় তার ব্যবহার বদলে যায়।”
অভিযোগ অনুযায়ী, একদিন মেয়েটি বাড়িতে একা থাকার সময় অভিযুক্ত জোর করে বাড়িতে ঢুকে তাঁর ছবি তোলে। এরপর অ্যাসিড হামলার হুমকি দিয়ে এবং পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার ভয় দেখিয়ে তাকে যৌন নির্যাতনে বাধ্য করা হয়।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত নির্যাতিতার ছবি ও ভিডিও রেকর্ড করে। শুধু তাই নয়, এআই ব্যবহার করে ডিপফেক ভিডিও তৈরি করে ভুয়ো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেয় বলেও অভিযোগ। ওই অ্যাকাউন্ট থেকেই নির্যাতিতা ও তাঁর ভাইকে বারবার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। নির্যাতিতা আরও জানান, লাগাতার মানসিক নির্যাতনের ফলে একবার তিনি আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন।
এই মামলায় অভিযুক্তের বাবার ভূমিকাও গুরুতর বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সুপার পার্থ প্রতিম দাস আগেই জানিয়েছিলেন, এফআইআরে অভিযুক্তের বাবার নামও রয়েছে। তিনি শুধু ছেলের অপরাধে সমর্থন জানাননি, নির্যাতিতা ও তার পরিবারকে হুমকিও দিয়েছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া সরকারি নথি অনুযায়ী, অভিযুক্তের বাবা এবং পরিবারের আরও চার সদস্য এর আগে শিলচরের ফরেনার্স ট্রাইবুনালের (এফটি) সামনে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের সন্দেহে মামলার মুখোমুখি হয়েছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫১(২) (অপরাধমূলক ভয় দেখানো), ৭৭ (ভয়্যারিজম), ৭৯ (নারীর শালীনতা লঙ্ঘন) এবং ৬৪ (ধর্ষণ) ধারায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পকসো আইনের ৬ ও ১৪(৩) ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার ও শিশু সুরক্ষা সংগঠনগুলি দ্রুত বিচার ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।



