উৎসব অগ্রিমের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন এনেছে ত্রিপুরা সরকার। প্রায় এক লক্ষ রাজ্য সরকারি কর্মী ও যোগ্য শ্রমিক এই সুবিধার আওতায় আসবেন।
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
আগরতলা:দুর্গাপুজোর আগে রাজ্য সরকারি কর্মী, শ্রমিক, পেনশনভোগী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগীদের জন্য উৎসব ভাতা বাড়াল ত্রিপুরা সরকার। একই সঙ্গে উৎসবের জন্য সুদমুক্ত অগ্রিমের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ানো হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে উৎসব ভাতার জন্য ৪৭.১৬ কোটি টাকা এবং উৎসব অগ্রিমের জন্য প্রায় ১৮৩.৭৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘোষণা করেন ত্রিপুরার অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অর্থসচিব পি কে গোয়েল এবং অতিরিক্ত সচিব ড. অচিন্ত্যন সরকার।
নতুন সিদ্ধান্তে যোগ্য প্রত্যেক শ্রেণির জন্য উৎসব ভাতা ৩০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। মোট ২ লক্ষ ৩৪ হাজার ৪১৭ জন কর্মী, শ্রমিক, পেনশনভোগী ও পারিবারিক পেনশনভোগী এর আওতায় আসবেন। তাঁদের মধ্যে ১ লক্ষ ৪৮ হাজার ৫০১ জন কর্মী ও শ্রমিক এবং ৮৫ হাজার ৯১৬ জন পেনশনভোগী ও পারিবারিক পেনশনভোগী রয়েছেন।
নতুন হারে গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি কর্মী, নির্দিষ্ট বেতনভুক্ত কর্মী, যোগ্য দৈনিক মজুরির কর্মী, পেনশনভোগী, পারিবারিক পেনশনভোগী এবং সরকারি পরিচালিত মন্দিরের পুরোহিতেরা ২,৪০০ টাকা করে উৎসব ভাতা পাবেন। গত বছর এই ভাতার পরিমাণ ছিল ২,১০০ টাকা।
অন্যদিকে, খণ্ডকালীন, চুক্তিভিত্তিক ও অস্থায়ী কর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকা, হোমগার্ড ও এসপিও এবং নির্দিষ্ট শ্রেণির দৈনিক মজুরি ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা পাবেন ২,৬১০ টাকা। গত বছর এই পরিমাণ ছিল ২,৩১০ টাকা। খণ্ডকালীন ও অনিয়মিত পাম্প অপারেটরদের ভাতাও ১,০৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৩৫০ টাকা করা হয়েছে। বর্ধিত ভাতার জন্য অতিরিক্ত ৬.১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে সরকার।
একজন যোগ্য সুবিধাভোগী অর্থবর্ষে নির্ধারিত নয়টি ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে যে কোনও একটির জন্য এই ভাতা নিতে পারবেন। তালিকায় রয়েছে দুর্গাপুজো, বড়দিন, গরিয়া পুজো, বুদ্ধপূর্ণিমা, ঈদুজ্জোহা, বাংলা নববর্ষ, ঈদুল ফিতর, গুরু নানকের জন্মদিন এবং মহাবীর জয়ন্তী। উৎসব ভাতা পেতে অনলাইনে আবেদন করার প্রয়োজন হবে না।
উৎসব অগ্রিমের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন এনেছে ত্রিপুরা সরকার। প্রায় এক লক্ষ রাজ্য সরকারি কর্মী ও যোগ্য শ্রমিক এই সুবিধার আওতায় আসবেন।
নতুন ব্যবস্থায় নিয়মিত গ্রুপ-এ, গ্রুপ-বি, গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি কর্মী, নির্দিষ্ট বেতনভুক্ত কর্মী এবং যোগ্য দৈনিক মজুরির গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি কর্মীরা ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত অগ্রিম পাবেন। আগে সংশ্লিষ্ট শ্রেণিগুলির জন্য অগ্রিমের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে।
এই প্রথম অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকা এবং হোমগার্ডদেরও উৎসব অগ্রিমের আওতায় আনা হয়েছে। তাঁরা ৫ হাজার টাকা করে পাবেন। জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের অধীনে পারিশ্রমিক পাওয়া আশা কর্মীরা পাবেন ২ হাজার টাকা সুদমুক্ত অগ্রিম।
উৎসব অগ্রিমের জন্য যোগ্য কর্মীদের নেক্সটজেন এইচআরএমএস পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। তবে উৎসব ভাতার ক্ষেত্রে কোনও অনলাইন আবেদন প্রয়োজন হবে না।
দুর্গাপুজোর আগে সরকারের এই সিদ্ধান্তে ত্রিপুরার সরকারি কর্মী, শ্রমিক ও পেনশনভোগীদের জন্য উৎসবকেন্দ্রিক আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়ল।


