শিলচরে কনভয় যাওয়ার সময় রোগীবাহী অ্যাম্বুল্যান্স থামানোর অভিযোগ; তদন্তের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর, দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার আশ্বাস
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
শিলচর: মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় যাওয়ার সময় রোগী নিয়ে যাওয়া একটি অ্যাম্বুল্যান্স থামিয়ে রাখার ঘটনায় ক্ষমা চাইলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। বুধবার শিলচরের রামনগর আইএসবিটি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরই প্রতিক্রিয়া জানান মুখ্যমন্ত্রী। ঘটনাটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করে তদন্তের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ হিমন্ত বলেন, তাঁর কনভয় যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুল্যান্সটি থামিয়ে রাখা হয়েছিল। ‘জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন থাকা কোনও মানুষের জীবনের চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর যাতায়াত কখনওই অগ্রাধিকার পেতে পারে না’, বলে মন্তব্য করে রোগী ও তাঁর পরিবারের কাছে ক্ষমা চান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁর কনভয়ের চলাচলে সাধারণ মানুষ যাতে অযথা সমস্যায় না পড়েন, সে বিষয়ে আগে থেকেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শিলচরের ঘটনায় সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি।
ঘটনার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ‘দৃঢ় পদক্ষেপ’ করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান হিমন্ত। তাঁর কনভয় চলাচল সংক্রান্ত নির্দেশ কেউ লঙ্ঘন করেছেন বলে তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
রামনগর আইএসবিটিতে কী ঘটেছিল?
মুখ্যমন্ত্রীর এক দিনের শিলচর সফর চলাকালীন রামনগর আইএসবিটি এলাকায় তাঁর কনভয়ের জন্য যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করছিল পুলিশ। সেই সময় একটি অ্যাম্বুল্যান্সকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ব্যক্তির করা ভিডিওতে অ্যাম্বুল্যান্সটিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, যখন মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় ওই এলাকা দিয়ে চলে যায়। ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।
তবে অ্যাম্বুল্যান্সে থাকা রোগীর শারীরিক অবস্থা, কতক্ষণ সেটিকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল এবং ওই সময় রোগীর চিকিৎসায় কোনও ক্ষতি হয়েছিল কি না—এই বিষয়গুলি সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত সরকারি তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
ভিআইপি বা উচ্চ নিরাপত্তার কনভয় চলাচলের সময় সাধারণ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা পুলিশের নিয়মিত দায়িত্বের অংশ। তবে জরুরি পরিষেবার যান, বিশেষ করে অ্যাম্বুল্যান্সকে কীভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তা নিয়ে এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
হিমন্ত নিজেও এর আগে তাঁর কনভয়ের কারণে সাধারণ মানুষের যাতে অযথা দুর্ভোগ না হয়, সে বিষয়ে নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। শিলচরের ঘটনাটি সেই নির্দেশ বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তদন্ত শুরু হওয়ায় এখন মূল বিষয় হল—কোন পর্যায়ে অ্যাম্বুল্যান্সটিকে থামানো হয়েছিল, কার নির্দেশে তা করা হয়েছিল এবং কনভয় ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না।
তদন্তে দায় নির্ধারিত হওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট আধিকারিক বা কর্মীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট হবে।


