বর্তমানে সরকারি হাসপাতালগুলিতে ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা থাকলেও রোগীর চাপের তুলনায় পরিকাঠামো পর্যাপ্ত নয়। ফলে অনেক রোগীকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় বলে জানান সাপাম রঞ্জন। নতুন ৭০ শয্যার কেন্দ্র চালু হলে সেই চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
ইম্ফল:মণিপুরে ৭০ শয্যার রাজ্য ডায়ালাইসিস কেন্দ্র তৈরির অনুমোদন দিল রাজ্য মন্ত্রিসভা। ইম্ফল পূর্ব জেলার টিবি হাসপাতালে এই কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সরকারের মুখপাত্র ড. সাপাম রঞ্জন এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিংহের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়। প্রস্তাবিত মণিপুর স্টেট ডায়ালাইসিস সেন্টারটি জওহরলাল নেহরু ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস বা জেএনআইএমএস-এর অধীনে পরিচালিত হবে।
নতুন কেন্দ্রে নিয়মিত ডায়ালাইসিস প্রয়োজন এমন রোগীদের বিশেষ চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হবে। বর্তমানে সরকারি হাসপাতালগুলিতে ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা থাকলেও রোগীর চাপের তুলনায় পরিকাঠামো পর্যাপ্ত নয়। ফলে অনেক রোগীকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় বলে জানান সাপাম রঞ্জন। নতুন ৭০ শয্যার কেন্দ্র চালু হলে সেই চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রটি প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা বা পিএমজেএওয়াই-এর আওতায় পরিচালিত হবে। মুখ্যমন্ত্রীর চিকিৎসা সহায়তা প্রকল্প সিএমএইচটি-র আওতাভুক্ত রোগীরা এখানে বিনামূল্যে ডায়ালাইসিস পরিষেবা পাবেন।
এ ছাড়াও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। কেন্দ্রীয় সরকারের সংশোধিত ‘রাইট অব ওয়ে’ বা পথ ব্যবহারের ক্ষতিপূরণ কাঠামো অনুযায়ী এই অর্থ দেওয়া হবে।
সাপাম রঞ্জন জানান, বিশ্বব্যাঙ্ক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক এবং রেল-সম্পর্কিত কাজ-সহ বিদেশি সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্প ও আমানতভিত্তিক প্রকল্পের ক্ষেত্রে সঞ্চালন টাওয়ারের ভিত্তি যে জমিতে রয়েছে, সেই অংশের জমির মূল্যের ২০০ শতাংশ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
সঞ্চালন করিডরের মধ্যে থাকা জমির জন্য জমির মূল্যের ৩০ শতাংশ ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাজ্য সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পের ক্ষেত্রে সঞ্চালন টাওয়ারের ভিত্তি যে অংশের জমি দখল করবে, তার জন্য জমির মূল্যের ১০০ শতাংশ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। সঞ্চালন করিডরের মধ্যে থাকা জমির জন্য এখানেও ৩০ শতাংশ হারে ক্ষতিপূরণ মিলবে।
সরকারের দাবি, নতুন সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে রাজ্যে ডায়ালাইসিস পরিষেবার পরিকাঠামো বাড়বে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ সঞ্চালন প্রকল্পের জন্য জমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের ক্ষতিপূরণের কাঠামোও আরও স্পষ্ট হবে।


