শহরের টাউন ক্লাব মাঠে এ বছর প্রথম বার সর্বজনীন দুর্গাপুজোর আয়োজন করছে সংস্কৃতি চেতনা ন্যাস। পুজোর অন্যতম আকর্ষণ হবে ‘শত কুমারী পুজো’। এর মাধ্যমে ১০০ জন কন্যাকে দেবীর প্রতীক হিসেবে সম্মান জানানো হবে। অনুষ্ঠানে তাঁদের অভিভাবকদেরও সংবর্ধনা দেওয়া হবে।
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
শিলচর:পুজোর জাঁকজমক, মণ্ডপসজ্জা কিংবা আলোকসজ্জার চেনা আবহের বাইরে গিয়ে এ বার নারী মর্যাদা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং সাংস্কৃতিক সচেতনতার বার্তা সামনে আনতে চাইছে শিলচরের একটি নতুন দুর্গাপুজো।
শহরের টাউন ক্লাব মাঠে এ বছর প্রথম বার সর্বজনীন দুর্গাপুজোর আয়োজন করছে সংস্কৃতি চেতনা ন্যাস। পুজোর অন্যতম আকর্ষণ হবে ‘শত কুমারী পুজো’। এর মাধ্যমে ১০০ জন কন্যাকে দেবীর প্রতীক হিসেবে সম্মান জানানো হবে। অনুষ্ঠানে তাঁদের অভিভাবকদেরও সংবর্ধনা দেওয়া হবে।
আয়োজকদের বক্তব্য, দেবী দুর্গার আরাধনার সঙ্গে সমাজে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সম্মানের বিষয়টিকেও যুক্ত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তাঁদের মতে, ধর্মীয় আচার শুধু পুজোমণ্ডপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে দৈনন্দিন জীবনে নারী ও মেয়েদের প্রতি সমাজের আচরণ নিয়েও ভাবনার সুযোগ তৈরি করা উচিত।
নবদম্পতিদের নিয়েও থাকছে বিশেষ আয়োজন। দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক সম্মান, দায়িত্ববোধ ও পারিবারিক সম্প্রীতির গুরুত্ব তুলে ধরাই হবে এই পর্বের উদ্দেশ্য।
পুজোর মণ্ডপেও থাকছে ভিন্ন ভাবনা। শুধুমাত্র বাহারি সাজসজ্জার বদলে টাউন ক্লাব মাঠের পুজোমণ্ডপকে একটি সাংস্কৃতিক পরিসর হিসেবে তুলে ধরার পরিকল্পনা নিয়েছেন উদ্যোক্তারা। বাঁশ, পাথর-সহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে ভারতের বৈচিত্র্যময় শিল্প ও স্থাপত্যধারার নানা দিক ফুটিয়ে তোলা হবে।
এই আয়োজনে স্থানীয় শিল্পী, কারিগর ও পরিবেশনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও অংশ নেবেন। তাঁদের মাধ্যমে শিল্প, ইতিহাস, সঙ্গীত ও আধ্যাত্মিকতার সমন্বয়ে পুজোর আবহ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংস্কৃতি চেতনা ন্যাসের সভাপতি অধ্যাপক নিরঞ্জন রায় বলেন, “আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য এবং সাত্ত্বিক রীতি মেনে দুর্গাপুজোকে সমাজের সামনে একটি আদর্শ রূপে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য। একই সঙ্গে নাগরিক দায়িত্ব, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ এবং পরিবেশ সুরক্ষার বার্তাও এই আয়োজনের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।”
মহালয়ার দিন আনুষ্ঠানিক মশাল প্রজ্বালনের মাধ্যমে পুজোর সূচনা হবে। গত ১৪ জুলাই ৭৫ সদস্যের কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে এই পুজোর আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হয়। পুজোর যাবতীয় আয়োজন তদারকির জন্য গঠন করা হয়েছে ৩০ সদস্যের কার্যকরী কমিটি।


