সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সাহা বলেন, তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনে কোনও বিষয়ে ভিন্নমত থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে শেষ পর্যন্ত কমিশনই দেশজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য SIR চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিরোধীরা বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
আগরতলা: নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-এর সিদ্ধান্ত কমিশনের যৌথ সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। নির্বাচন কমিশনের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিকে ঘিরে বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এই ইস্যুতে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সাহা বলেন, তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনে কোনও বিষয়ে ভিন্নমত থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে শেষ পর্যন্ত কমিশনই দেশজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য SIR চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিরোধীরা বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য আসে বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি ফের তোলার পর। চৌধুরী একটি সামাজিক মাধ্যম পোস্টে অভিযোগ করেন, SIR প্রক্রিয়ায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের মতামত উপেক্ষা করেছেন এবং শাসক দলের প্রতি পক্ষপাত দেখিয়েছেন। তবে এই অভিযোগগুলি বিরোধী নেতার বক্তব্য হিসেবেই এসেছে।
বিতর্কের সূত্রপাত একটি সংবাদ প্রতিবেদনে, যেখানে দাবি করা হয়, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি SIR-সংক্রান্ত কয়েকটি সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক নির্দেশ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে গত ১০ মাসে তাঁদের একাধিক আপত্তির কথা উল্লেখ করা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কমিশনের সদস্যদের লিখিত পর্যবেক্ষণ, প্রশ্ন বা পরামর্শ প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ। কমিশনের দাবি, SIR-সহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি শেষ পর্যন্ত সর্বসম্মতভাবেই গৃহীত হয়েছে।
চৌধুরী অবশ্য তাঁর দাবি থেকে সরে আসেননি। তাঁর বক্তব্য, আগামী বছরের শুরুতে উত্তরপ্রদেশ ও পাঞ্জাব-সহ একাধিক রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন রয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরানো প্রয়োজন।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে যে SIR-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি কমিশনের নির্ধারিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নেওয়া হয়েছে।


