তিন নির্বাচন কমিশনারের সর্বসম্মত অনুমোদনের দাবি; বাড়ি গিয়ে নথি সংগ্রহ করবেন বুথ আধিকারিক, দিল্লি ও মহারাষ্ট্রে বাড়ল দাবি-আপত্তির সময়সীমা
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
নয়াদিল্লি: বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে কোনও মতভেদ নেই—শনিবার ফের সেই দাবি করল কমিশন। কমিশনের বক্তব্য, এসআইআর সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশির সর্বসম্মত অনুমোদনেই নেওয়া হয়েছে।
শনিবার নয়াদিল্লির নির্বাচন সদনে তিন কমিশনারের বৈঠকের পর কমিশন জানায়, এসআইআর নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু প্রশাসনিক বিষয়ও স্পষ্ট করা হয়েছে। কমিশনের দাবি, ক্যাবিনেট সচিবকে পাঠানো চিঠিটি কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে ছিল না। তা ছিল কমিশনে ডেপুটেশনে থাকা এক আধিকারিকের কাজের দায়িত্ব সংক্রান্ত প্রশাসনিক বিষয়।
এর আগে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দুই নির্বাচন কমিশনারের একাধিক এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে আপত্তির কথা সামনে আসে। সেই রিপোর্ট ঘিরে কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কমিশন অবশ্য শুরু থেকেই এসআইআর সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত ভাবে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে আসছে।
শনিবারের বৈঠকে শুধু প্রশাসনিক বিষয় নয়, এসআইআরের নোটিসপ্রাপ্ত ভোটারদের জন্য প্রক্রিয়াও কিছুটা সহজ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এসআইআরের সময়ে যাঁদের নাম ‘আনম্যাপড’ বা তথ্যের মধ্যে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ থাকার কারণে নোটিস দেওয়া হয়েছে, তাঁদের বেশির ভাগকেই এবার শুনানির জন্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতরে হাজির হতে হবে না।
নতুন ব্যবস্থায় বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও সংশ্লিষ্ট ভোটারের বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করবেন। সেই নথি ইসিআইনেটে আপলোড করা হবে। এরপর ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা ইআরও নথি দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন।
শুধুমাত্র ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে ইআরও শুনানির প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করবেন। সম্ভব হলে সেই শুনানি অনলাইনেই করার কথা জানিয়েছে কমিশন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ভোটার তাঁর পরিবারের কোনও প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকেও শুনানিতে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য অনুমতি দিতে পারবেন।
এই ব্যবস্থার পাশাপাশি অনলাইন শুনানির পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাতের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষ, শ্রমিক, গরিব, গৃহহীন এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় সমস্যায় পড়তে পারেন এমন নাগরিকদের জন্য জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের পর্যাপ্ত সাহায্যকেন্দ্র ও বিশেষ শিবির করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
এসআইআরের সময়ে বাদ পড়া ভোটার এবং নতুন ভোটারদের জন্যও ভোটার তালিকায় নাম তোলার সুযোগ থাকবে। কমিশন জানিয়েছে, ধারাবাহিক সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ইআরওর কাছে আবেদন করা যাবে। তরুণ ও প্রথমবার ভোট দিতে চলা নাগরিকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিতে রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গোয়ায় বাদ পড়া ৯৭ জন ভোটারের মধ্যে ৮১ জন ইতিমধ্যে ফর্ম ৬ পূরণ করেছেন বলেও জানিয়েছে কমিশন।
এসআইআর নিয়ে দাবি ও আপত্তি জানানোর সময়সীমাও কয়েকটি রাজ্যে বাড়ানো হয়েছে।
দিল্লিতে দাবি ও আপত্তি জানানোর শেষ তারিখ ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নোটিস, দাবি ও আপত্তি নিষ্পত্তির সময়সীমা করা হয়েছে ৩০ নভেম্বর।
মহারাষ্ট্রে দাবি ও আপত্তি জানানোর সময়সীমা বাড়িয়ে ১২ অক্টোবর করা হয়েছে। নোটিস, দাবি ও আপত্তি নিষ্পত্তির শেষ তারিখ ১০ নভেম্বর।
কমিশন আরও জানিয়েছে, ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বাকি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরই মোট ভোটারের সংখ্যা স্পষ্ট হবে।
ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কাজের জন্য ব্যবহৃত ইসিআইনেট ব্যবস্থাও পর্যালোচনা করা হবে। এক জন সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটিতে আইআইটি বা আইআইআইটির এক জন স্বাধীন বিশেষজ্ঞও থাকবেন।
প্রাসঙ্গিক আইন ও বিধির সঙ্গে ইসিআইনেটের কাজের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে কমিশনের কাছে রিপোর্ট দেবে কমিটি।
এর পাশাপাশি ভবিষ্যতে তথ্যপ্রযুক্তি মডিউল ও পোর্টাল সংক্রান্ত নতুন কোনও উদ্যোগ কমিশনের অনুমোদনের আগে অফিসারদের কমিটিতে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
কমিশন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে বৈঠকের এজেন্ডা আগে থেকে সদস্যদের মধ্যে পাঠানো হবে এবং বৈঠকের কার্যবিবরণীও প্রকাশ করা হবে।
এসআইআর নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের মধ্যেই কমিশনের এই সিদ্ধান্তগুলিকে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া আরও সরল করার উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম নিয়ে যে প্রশ্নগুলি গত কয়েক দিনে প্রকাশ্যে এসেছে, শনিবারের বিবৃতিতে সেগুলির বিষয়ে কমিশন মূলত নিজেদের সিদ্ধান্তের সর্বসম্মত অনুমোদনের কথাই জোর দিয়ে জানিয়েছে।


