মার্কিন জবাবের অপেক্ষায় তেহরান; যুদ্ধবিরতি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও বিদেশে আটকে থাকা অর্থ ছাড়ার শর্তে হরমুজ খুলতে প্রস্তাব ইরানের
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
তেহরান: হরমুজ প্রণালী নিয়ে সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করে কড়া বার্তা দিল ইরান। তেহরানের নিরাপত্তা স্বার্থ নিশ্চিত না হলে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন পরিকাঠামোও হামলার লক্ষ্য হতে পারে বলে মঙ্গলবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে গালিবাফ বলেন, “আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনও পরিকাঠামোই নিরাপদ থাকবে না।” তাঁর আরও বক্তব্য, যে অঞ্চলে ইরান তেল বিক্রি করতে পারবে না, সেখানে অন্য দেশগুলিও তেল বিক্রি করতে পারবে না।
হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া নিয়ে ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষের মধ্যে প্রস্তাব আদানপ্রদান করছে। এখন মার্কিন অবস্থান জানার পর তা তেহরানকে জানানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরাঘচির বক্তব্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে আলোচনার মূল বিষয় হরমুজ প্রণালী। তবে প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার আগে ইরানের নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।
তেহরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সাত দিনের যুদ্ধবিরতি, বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়া, ইরানের তেল খাতের উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং ইরানি বন্দরের উপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে আরাঘচির সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদের স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের আলোচনা হয়েছিল। সেই আলোচনার পরই কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বেড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলছে।
এদিকে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডস মঙ্গলবার মার্কিন এই দাবি খারিজ করেছে যে হরমুজ প্রণালী এখনও খোলা রয়েছে। গার্ডের মুখপাত্র হোসেইন মোহেবির দাবি, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে সীমিত পরিমাণে তেল পরিবহণকে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বলা যায় না।
তাঁর আরও দাবি, হরমুজ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা জাহাজ ইরানের হামলা অথবা সমুদ্রের মাইনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে এই অচলাবস্থা বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ এই জলপথ দিয়ে যেত।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের উপর মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলার পর থেকেই হরমুজকে কেন্দ্র করে সংঘাত তীব্র হয়েছে। ওয়াশিংটন ইরানি বন্দরগুলির চারপাশে পাল্টা অবরোধ বজায় রেখেছে। তেহরানও হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণের দাবি করে আসছে।
এই পরিস্থিতিতে কাতার-সহ মধ্যস্থতাকারীদের তৎপরতা এখন সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর অন্যতম প্রধান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হয়ে উঠেছে।


