তৃণমূল নেতাদের আটকে রাখার অভিযোগ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর; বিজেপি কর্মীরা সভার রাস্তা দখল করে রেখেছে বলেও দাবি, অভিযোগ অস্বীকার বিজেপির
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
কলকাতা:শ্রীরামপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে দলীয় নেতাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁদের ‘হাউস অ্যারেস্ট’ করে রাখা হয়েছে—শনিবার এমনই অভিযোগ করলেন দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আরও দাবি, সভাস্থলের দিকে যাওয়ার রাস্তা বিজেপি কর্মীরা আটকে রেখেছেন।
শ্রীরামপুরের সভায় যাওয়ার পথে দলীয় নেতা-কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। মমতার অভিযোগ, পুলিশ ও প্রশাসন গোটা ঘটনায় কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।
মমতা বলেন, তাঁকেও বাড়ি থেকে বেরিয়ে সভাস্থলে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তবে বাধা সত্ত্বেও তিনি সভায় যাবেন এবং সেখানে বক্তব্য রাখবেন বলে জানান তৃণমূল নেত্রী।
তাঁর অভিযোগ, ‘‘সভাস্থলে যাওয়ার রাস্তা বিজেপির লোকেরা দখল করে নিয়েছে। সেখানে কোনও পুলিশ নেই।’’ তাঁর আরও দাবি, আদালতের অনুমতি নিয়েই সভার আয়োজন করা হয়েছে। তাই সভা যাতে শান্তিপূর্ণ ভাবে হয়, তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব।
শ্রীরামপুরে তৃণমূলের সভা নিয়ে এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশও এসেছিল। আদালত ২৬ সেপ্টেম্বর শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানে সভা করার অনুমতি দেয় এবং সর্বাধিক ১,০০০ জনের উপস্থিতির সীমা বেঁধে দেয়। সভা শান্তিপূর্ণ ভাবে করার জন্য পুলিশকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
এর মধ্যেই শনিবার সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভের অভিযোগ ওঠে। তৃণমূলের দাবি, হুগলির উত্তরপাড়া এলাকায় এক দল মানুষ কালো পতাকা নিয়ে তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে স্লোগান দেন। গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ও পাথর ছোড়া হয় বলেও দলের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে।
কুণাল ঘোষের দাবি, হামলার সময় পুলিশকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি এবং তাঁর গাড়ির পিছনের কাচ ভেঙে যায়। অন্য দিকে, বিজেপির এক বিধায়ক ঘটনাটিকে স্বতঃস্ফূর্ত জনবিক্ষোভ বলে দাবি করেছেন। ফলে হামলার পিছনে কারা ছিল, তা নিয়ে দুই দলের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন।
মমতা এদিন অভিযোগ করেন, তৃণমূল নেতা-কর্মীদের উপর একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আদালতের অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও একটি রাজনৈতিক দলের সভায় যাওয়া নিয়ে কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
শ্রীরামপুরের এই ঘটনাকে ঘিরে ফের তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত প্রকাশ্যে এল। তৃণমূলের অভিযোগ, তাদের সভা ও নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিত ভাবে বাধা তৈরি করা হচ্ছে। বিজেপি অবশ্য তৃণমূলের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এদিকে, মমতার অভিযোগের স্বাধীন ভাবে কোনও নিশ্চিত প্রমাণ বা পুলিশের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত সামনে আসেনি। ফলে ‘হাউস অ্যারেস্ট’ বা রাস্তা দখলের অভিযোগের সত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে প্রশাসনের বক্তব্যের অপেক্ষা থাকছে।


