রবিবার ব্যাঙ্ক খোলার সিদ্ধান্তে মিজোরামে আপত্তি, সরব চার্চ ও ওয়াইএমএ

2 - মিনিট |

ব্যাঙ্ক কর্মীদের ২৮–৩০ সেপ্টেম্বরের দেশজোড়া ধর্মঘটের আগে পরিষেবা সচল রাখতে ২৭ সেপ্টেম্বর শাখা খোলার সিদ্ধান্ত; ধর্মীয় রীতির কথা তুলে পুনর্বিবেচনার দাবি

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

আইজল: রবিবার সরকারি ও আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্ক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে মিজোরামে আপত্তি জানাল রাজ্যের শীর্ষ চার্চ সংগঠন এবং বৃহত্তম নাগরিক সংগঠন ইয়ং মিজো অ্যাসোসিয়েশন বা ওয়াইএমএ। তাঁদের বক্তব্য, ব্যাঙ্কিং পরিষেবা সচল রাখা প্রয়োজন হলেও মিজোরামের ধর্মীয় রীতি ও সামাজিক পরম্পরাকেও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

মিজোরামের কাউন্সিল অব চার্চেস বা সিসিএম, রাজ্যের ন’টি প্রধান চার্চের প্রতিনিধিত্ব করে। শনিবার দেওয়া বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার সরকারি ও আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্ক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত তারা সমর্থন করছে না। সংগঠনের বক্তব্য, মিজোরামের মানুষের একটি বড় অংশের কাছে রবিবার প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচরণের গুরুত্বপূর্ণ দিন। তাই ওই দিনে ব্যাঙ্কের স্বাভাবিক কাজকর্ম চালু রাখার সিদ্ধান্ত ধর্মীয় স্বাধীনতার সঙ্গে সংঘাত তৈরি করতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।

২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর দেশজোড়া ব্যাঙ্ক কর্মীদের ধর্মঘটের ডাক রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের অসুবিধা কমাতে রবিবার ব্যাঙ্কের পরিষেবা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিসিএম জানিয়েছে, ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিনগুলির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সামাজিক ও ধর্মীয় বাস্তবতা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

একই দাবিতে সরব হয়েছে ওয়াইএমএ-ও। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি বা সেন্ট্রাল ওয়াইএমএ অর্থ মন্ত্রক, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এবং মিজোরাম সরকারকে রবিবার ব্যাঙ্ক খোলার সিদ্ধান্তটি রাজ্যের ক্ষেত্রে পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছে।

ওয়াইএমএ জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ব্যাঙ্কিং পরিষেবার প্রয়োজনীয়তা তারা অস্বীকার করছে না। তবে একই সঙ্গে মিজোরামের ধর্মীয় রীতি ও সামাজিক প্রথার প্রতিও সম্মান দেখানো দরকার। সংগঠনটির প্রস্তাব, রবিবার শাখা খোলার বদলে ব্যাঙ্কের কাজের সময় বাড়ানো, এটিএম পরিষেবা আরও শক্তিশালী করা, ডিজিটাল ব্যাঙ্কিংয়ের সুযোগ বাড়ানো এবং জরুরি প্রয়োজনের জন্য সীমিত পরিষেবা চালু রাখার মতো বিকল্প বিবেচনা করা যেতে পারে।

মিজোরামে রবিবারের ধর্মীয় ও সামাজিক গুরুত্বের বিষয়টি নতুন নয়। রাজ্যের চার্চ সংগঠন ও নাগরিক সংগঠনগুলির বক্তব্য, ব্যাঙ্কিং পরিষেবার প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সমাধান খোঁজা সম্ভব।

ওয়াইএমএ আরও জানিয়েছে, মিজোরামের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজ্য সরকার, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *