গুয়াহাটিতে ৪০-এর বেশি স্বেচ্ছাসেবককে আটক ; পরে সকলেই মুক্ত
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
গুয়াহাটি: অসম পুলিশের বিরুদ্ধে ‘বেআইনি ভাবে’ আটকের অভিযোগ তুললেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা। তাঁর দাবি, ২৭ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটিতে একটি স্বেচ্ছাসেবক বৈঠকের আগে তাঁকে এবং ৪০-এর বেশি দলের কর্মী-সমর্থককে পুলিশ আটক করে। পুলিশ আধিকারিকরা তাঁদের জানিয়েছিলেন, ‘উপরমহলের নির্দেশে’ এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—এমনই অভিযোগ রাঙ্কার।
পরে রবিবার সন্ধ্যায় রাঙ্কা-সহ আটক সকলকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মুক্তির পর রাঙ্কা জানান, আটকের কারণ জানতে চাইলে পুলিশ নির্দিষ্ট কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি। তাঁর দাবি, পুলিশ শুধু জানিয়েছিল, তারা ‘উপরমহলের নির্দেশ’ পালন করছে।
রাঙ্কা ও সিজেপি কর্মীরা অসম জাতীয় পরিষদ (এজেপি)-র নেতা কুঙ্কি চৌধুরীর চৌধুরী টিলার বাড়িতে বৈঠকের জন্য জড়ো হয়েছিলেন। সেখান থেকেই তাঁদের নিয়ে গিয়ে গুয়াহাটির কাহিলিপাড়ায় দশম অসম পুলিশ ব্যাটালিয়নের প্রাঙ্গণে রাখা হয়েছিল বলে সিজেপির দাবি।
সিজেপির দাবি, বৈঠকে অসমের সরকারি স্কুলের পরিস্থিতি, কাজিরাঙায় স্থানীয় মানুষের অধিকার এবং বিধানসভা কেন্দ্রের সীমানা পুনর্বিন্যাস-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। সংগঠনটির অভিযোগ, সেই বৈঠক ঠেকাতেই পুলিশি পদক্ষেপ করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে আটকের কারণ বা নির্দিষ্ট আইনি ধারার বিষয়ে কোনও প্রকাশ্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুক্তির পর রাঙ্কা অভিযোগ করেন, অসমের স্কুলগুলির পরিস্থিতি, কাজিরাঙায় জমি-জল-জঙ্গল নিয়ে স্থানীয় মানুষের অধিকার এবং বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণেই তাঁদের আটক করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে নিয়েও তিনি একাধিক অভিযোগ তোলেন। তবে এই অভিযোগগুলির স্বাধীন কোনও প্রমাণ সামনে আসেনি।
সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকেও পুলিশি পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। সংগঠনটির দাবি, অসমে তাদের সাংগঠনিক কর্মসূচি বন্ধ করা হবে না।
এদিকে, বিরোধী রাজনৈতিক মহলের কয়েকজনও আটক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে পুলিশ এখনও প্রকাশ্যে আটকের আইনি ভিত্তি বা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা দায়ের হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি।


