ইরান-আমেরিকা সংঘাত, চড়া তেলের দাম ও মার্কিন বন্ডের সুদে চাপ; নিফটি ২২,৮০০-এর নিচে, বিনিয়োগকারীদের সম্পদ কমল ৮.৯২ লক্ষ কোটি টাকা
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
মুম্বই, ২৮ সেপ্টেম্বর: সপ্তাহের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল ভারতীয় শেয়ার বাজার। ইরান-আমেরিকা সংঘাত ঘিরে অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মার্কিন বন্ডের ঊর্ধ্বমুখী সুদের জেরে সোমবার সেনসেক্স ও নিফটি—দুই সূচকই দেড় শতাংশের বেশি পড়ল।
দিনের শেষে বিএসই সেনসেক্স ১,১২৪ পয়েন্ট বা ১.৫২ শতাংশ কমে ৭২,৭৭১.৭২-এ থামে। নিফটি৫০ পড়ে ৩৬০ পয়েন্ট বা ১.৫৬ শতাংশ, বন্ধ হয় ২২,৭৮০.২৫-এ। সেনসেক্সের ৩০টি শেয়ারের সবকটিই দিনের শেষে লোকসানে ছিল। বাজাজ ফিনান্স, কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্ক ও এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের শেয়ারে তুলনামূলক বেশি চাপ দেখা যায়।
শুধু বড় সংস্থার শেয়ারেই পতন সীমাবদ্ধ ছিল না। নিফটি স্মলক্যাপ ১০০ এবং নিফটি মিডক্যাপ ১০০—দুই সূচকই এক শতাংশের বেশি নেমেছে।
৮.৯২ লক্ষ কোটি টাকা কমল বাজারমূল্য
বাজারে ব্যাপক বিক্রির জেরে বিএসই-তে তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলির সম্মিলিত বাজারমূল্য এক দিনে প্রায় ৮.৯২ লক্ষ কোটি টাকা কমেছে। তা নেমে এসেছে আনুমানিক ৪৭৪ লক্ষ কোটি টাকায়।
ভারতীয় বাজারের এই পতন বৃহত্তর এশীয় বাজারের দুর্বলতার সঙ্গেও তাল মিলিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি ২ শতাংশের বেশি এবং চিনের সাংহাই কম্পোজিট ১.৭ শতাংশের বেশি পড়েছে। জাপানের নিক্কেই অবশ্য সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
কেন এতটা চাপ বাজারে?
ইরান-আমেরিকা সংঘাত: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে।
চড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম: সংঘাতের জেরে সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কায় তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। তেলের দাম বাড়লে ভারতের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি ও বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।
মার্কিন বন্ডের সুদ: ১০ বছরের মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদ ৫.২ শতাংশের উপরে উঠে বহু বছরের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। ৩০ বছরের বন্ডের সুদ ৫.৫ শতাংশ এবং দু’বছরের বন্ডের সুদ ৪.৯ শতাংশ ছাড়িয়েছে। বন্ডে তুলনামূলক বেশি রিটার্নের সম্ভাবনা তৈরি হলে শেয়ার বাজার থেকে অর্থ সরে যাওয়ার চাপ বাড়তে পারে।
চাপে টাকা: ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার দামও কমেছে। সোমবার সকালে ১৪ পয়সা কমে এক ডলারের দাম দাঁড়ায় ৯৫.৮৯ টাকা। চড়া তেলের দাম, শক্তিশালী ডলার ও মার্কিন বন্ডের সুদ—তিন দিক থেকেই টাকার উপর চাপ রয়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রি: বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও ভারতীয় শেয়ার বিক্রি অব্যাহত রেখেছেন। শুক্রবার তাঁরা নিট ৩,৬৯৪ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেন। চলতি মাসে এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট ইক্যুইটি বহির্গমন ২৫,৬৮২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে প্রাথমিক তথ্য উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আপাতত তেলের দাম, ডলারের গতিবিধি, মার্কিন বন্ডের সুদ এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিই ভারতীয় বাজারের দিক নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেবে।


