ছাড়, নির্দিষ্ট কোটা ও রেল পাসে যাত্রার ক্ষেত্রে সঙ্গে রাখতে হবে নির্ধারিত আসল পরিচয়পত্র
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
নয়াদিল্লি: উৎসবের মরসুমের আগে ট্রেনের টিকিট যাচাইয়ে বিশেষ অভিযান শুরু করতে চলেছে ভারতীয় রেল। ১ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সেন্ট্রাল রেলওয়ের বিভিন্ন ট্রেনে এই বিশেষ টিকিট পরীক্ষা চালানো হবে। ছাড়ে বুক করা টিকিট, নির্দিষ্ট সংরক্ষণ কোটা এবং বিভিন্ন ধরনের রেল পাসের বৈধতা যাচাইয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
সেন্ট্রাল রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক ডা. স্বপ্নিল নীলা জানিয়েছেন, ছাড় বা নির্দিষ্ট সংরক্ষণ কোটায় যাত্রা করা যাত্রীদের নির্ধারিত আসল পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। টিকিট পরীক্ষার সময় যাত্রীর পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই করা হবে।
একটি টিকিটে একাধিক যাত্রীর নাম থাকলে অন্তত একজন যাত্রীর কাছে নির্ধারিত আসল পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক। প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র দেখাতে না পারলে ওই টিকিটে থাকা সব যাত্রীকেই নিয়ম অনুযায়ী বৈধ টিকিট ছাড়া যাত্রা করছেন বলে গণ্য করা হতে পারে।
ই-পাস বা পিটিও নিয়ে যাত্রা করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও মূল পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। পাশাপাশি, যাত্রার আগে ই-পাস বা পিটিও নির্ধারিত নিয়মে ট্রাভেল অথরিটিতে বিনিময় করা হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষ অভিযানে আনরিজার্ভড টিকিটের সত্যতা যাচাইয়েও জোর দেওয়া হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী টিকিট পরীক্ষকরা টিটিই অ্যাপ ব্যবহার করে টিকিটের তথ্য পরীক্ষা করতে পারবেন।
রেলের বক্তব্য, সংরক্ষণ ব্যবস্থার অপব্যবহার বন্ধ করা, ভুয়োভাবে ছাড় ও পাস ব্যবহারে রাশ টানা, টিকিটের সত্যতা যাচাই এবং রাজস্ব ক্ষতি কমানোই এই বিশেষ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।
রেলের নিয়ম অনুযায়ী ভোটার পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, প্যান কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র, স্বীকৃত স্কুল বা কলেজের ছাত্র পরিচয়পত্র, ছবিযুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের পাসবুক, ছবিযুক্ত ক্রেডিট কার্ড এবং আধার কার্ড পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণযোগ্য।
এদিকে, বৈধ টিকিট ছাড়া যাত্রার ক্ষেত্রে ন্যূনতম জরিমানাও বাড়ানো হয়েছে। জন বিশ্বাস আইন, ২০২৬-এর আওতায় রেলওয়ে অ্যাক্ট, ১৯৮৯-এর ১৩৭ ও ১৩৮ নম্বর ধারায় ন্যূনতম জরিমানা ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে। ২০ জুন থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে।
উৎসবের মরসুমে যাত্রীসংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনার মধ্যে রেলের এই বিশেষ অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যাত্রীদের বৈধ টিকিটের পাশাপাশি, ছাড় বা বিশেষ কোটায় যাত্রার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আসল নথি সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


