৩,২০০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের পাশাপাশি ৪,৯০০ মেগাওয়াটের প্রকল্পে ছাড়পত্র; সৌরশক্তিতে ইতিমধ্যেই ১,৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
গুয়াহাটি, ৩০ সেপ্টেম্বর: আগামী কয়েক বছরে ৮,০০০ মেগাওয়াটের বেশি নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে অসম। এর মধ্যে বড় অংশই আসবে সৌরশক্তি-সহ অপ্রচলিত বা পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি প্রকল্প থেকে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রস্তাবিত নতুন ক্ষমতার প্রায় ৩,২০০ মেগাওয়াট আসবে প্রচলিত শক্তি থেকে। বাকি ক্ষমতা তৈরি হবে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি প্রকল্পের মাধ্যমে।
ধুবড়ি জেলার চাপরে ৩,২০০ মেগাওয়াটের সুপারক্রিটিক্যাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির কাজ চলছে। প্রকল্পটি ২০৩০ সালের ডিসেম্বর থেকে ধাপে ধাপে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়াও কার্বি আংলং ও ডিমা হাসাও জেলায় মোট ৪,৯০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় বিধিবদ্ধ ছাড়পত্র মিলেছে। প্রকল্পগুলির জন্য জমিও চিহ্নিত করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের খবর।
পাশাপাশি একাধিক সৌর ও অন্যান্য পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি প্রকল্পও নির্মাণ বা চালুর বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।
ধুবড়ির বিলাসিপাড়া এলাকায় খুদিগাঁও পার্ট-২-এ ৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত মাটিতে বসানো সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে। ‘বিল্ড-ওন-অপারেট’ মডেলে প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে।
ঢেকিয়াজুলির বরছলা রাজস্ব চক্রের ৩ নম্বর শীতলমারি গ্রামে আরও ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি হচ্ছে।
বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারি সংস্থাগুলিও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। অসম পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (এপিডিসিএল) এবং এনএলসি ইন্ডিয়া রিনিউএবলস লিমিটেড যৌথ উদ্যোগে ১,০০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তুলবে। প্রকল্পগুলির জন্য জমি চিহ্নিত করার কাজ চলছে।
একইভাবে এপিডিসিএল ও এসজেভিএন গ্রিন এনার্জি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে আরও ১,০০০ মেগাওয়াট পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্পের জন্যও জমি চিহ্নিত করা হচ্ছে।
অসমে বর্তমানে মোট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১,৩০০ মেগাওয়াট। বছরে আনুমানিক ১,৮৭২ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে বলে সরকারি হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর প্রকল্পের আওতায় অসমে প্রায় ১,৮৫,৫৮১টি পরিবার বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বসিয়েছে। আবাসিক ক্ষেত্রে এর সম্মিলিত ক্ষমতা প্রায় ৬১২ মেগাওয়াট।
তবে সরকারি হিসাবে মোট উৎপাদনের হিসাবটি আনুমানিক। কারণ পৃথক ছাদ-সৌর প্রকল্প থেকে বাস্তবে কত বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, তার সম্পূর্ণ তথ্য বর্তমানে রেকর্ড করা হয় না। এপিডিসিএল গ্রিডে সরবরাহ করা সৌরবিদ্যুতের পরিমাণ নথিভুক্ত করে।
বায়ুবিদ্যুতের ক্ষেত্রেও সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে গুজরাত, তামিলনাড়ু, কর্নাটক বা রাজস্থানের তুলনায় অসমে বায়ুশক্তির সম্ভাবনা অনেক কম বলে সরকারি আধিকারিকদের বক্তব্য।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব উইন্ড এনার্জি (এনআইডব্লিউই) আগে অসমের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৮০ মিটার উচ্চতায় বায়ু পরিমাপের মাস্ট বসিয়েছিল। সেই সমীক্ষায় অধিকাংশ এলাকায় বড় মাপের প্রচলিত বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য সম্ভাবনা সীমিত বলে উঠে আসে।
তবে বেশি উচ্চতায় পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা হতে পারে। প্রাথমিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, কিছু উপত্যকা ও উঁচু এলাকায় প্রায় ১২০ মিটার উচ্চতায় তুলনামূলক বেশি গতির বাতাস পাওয়া যেতে পারে।
এই এলাকাগুলিতে ১২০ মিটার শ্রেণির মনিটরিং মাস্ট বা লাইডার প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও বিস্তারিত সমীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যাপ্ত বায়ুপ্রবাহ, উপযুক্ত জমি, ভূপ্রকৃতি এবং গ্রিড সংযোগ পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে পরীক্ষামূলক বা বাণিজ্যিক প্রকল্পের কথা ভাবা হতে পারে।
তবে আপাতত গোটা অসমে বড় আকারে বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনকে কার্যকর বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে না। রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিকল্পনায় তাই সৌরশক্তি ও অন্যান্য পুনর্নবীকরণযোগ্য উৎসই মূল গুরুত্ব পাচ্ছে।


