‘পাঠ্যবইয়ে বহু হাত, বাস্তবে হাত-পা বাঁধা’—রাষ্ট্রপুঞ্জের ভূমিকা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ; ইরানের বিদেশমন্ত্রীর অভিযোগ, মার্কিন হুমকির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি রাষ্ট্রপুঞ্জ
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
তেহরান: আন্তর্জাতিক রাজনীতির উত্তপ্ত আবহে রাষ্ট্রপুঞ্জকে কটাক্ষ করতে এ বার বলিউডের জনপ্রিয় ছবি ‘শোলে’ এবং হলিউডের ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’-এর চরিত্রকে হাতিয়ার করল ইরান। ভারতের ইরানি দূতাবাসের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করা মিমে রাষ্ট্রপুঞ্জের ক্ষমতা ও বাস্তব ভূমিকার মধ্যে ফারাক বোঝাতে দুই জনপ্রিয় চরিত্রকে পাশাপাশি রাখা হয়েছে।
মিমের এক দিকে দেখা যাচ্ছে মার্ভেলের কাল্পনিক সুপারহিরো ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’-কে। একাধিক হাত-সহ তাঁর ছবির পাশে লেখা হয়েছে, ‘পাঠ্যবই অনুযায়ী রাষ্ট্রপুঞ্জ’। অন্য দিকে রয়েছে ১৯৭৫ সালের ‘শোলে’ ছবির ঠাকুর বলদেব সিংয়ের চরিত্র। গব্বর সিংয়ের হাতে যাঁর দুই হাত কাটা যায়। তাঁর ছবির পাশে লেখা, ‘বাস্তবে রাষ্ট্রপুঞ্জ’।
মিমের মাধ্যমে ইরানের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপুঞ্জের হাতে অনেক ক্ষমতা থাকার কথা বলা হলেও বাস্তবে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ সীমিত।
এই মিম প্রকাশের সময়ই রাষ্ট্রপুঞ্জের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তাঁর অভিযোগ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপুঞ্জ সনদ লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলেও বিশ্ব সংস্থা যথেষ্ট স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি।
নিউইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠকে এই অভিযোগ তোলেন আরাঘচি। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে ইরান আশা করে, আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রপুঞ্জ সনদ লঙ্ঘনের ঘটনায় সংস্থা ও সদস্য রাষ্ট্রগুলি নীরব থাকবে না।
বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথিত হুমকি ও হস্তক্ষেপমূলক পদক্ষেপের স্পষ্ট নিন্দা জানানোর জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রতি আহ্বান জানান ইরানের বিদেশমন্ত্রী।
এদিকে হরমুজ প্রণালী নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের টানাপোড়েনও অব্যাহত। প্রণালী পুনরায় খোলার জন্য ইরানের দেওয়া প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তবে আরাঘচি জানিয়েছেন, মার্কিন আধিকারিকদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ইরান।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে সরাসরি সংঘর্ষের মাত্রা কিছুটা কমলেও হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা কাটেনি। ইরান এখনও প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলিকে লক্ষ্য করছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অন্য দিকে, ওয়াশিংটন আরও সামরিক পদক্ষেপের বদলে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাষ্ট্রপুঞ্জকে নিয়ে ইরানের নতুন মিম আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ফের বিশ্ব সংস্থার ভূমিকা ও কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক সামনে এনেছে।


