জরুরি যানবাহনকে অবাধ পথ দেওয়ার নির্দেশ; প্রয়োজন হলে কনভয়ই থামাতে হবে
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
গুয়াহাটি: মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের জন্য কোনও ভাবেই অ্যাম্বুল্যান্স, দমকলের গাড়ি বা অন্য জরুরি পরিষেবার যান আটকে রাখা যাবে না—জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে ফের কড়া নির্দেশ দিল অসমের মুখ্যমন্ত্রীর দফতর। প্রয়োজন হলে জরুরি যানবাহনকে আগে যেতে দিতে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ই থামানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিলচরে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় যাওয়ার সময় একটি রোগীবাহী অ্যাম্বুল্যান্স থামিয়ে দেওয়ার ঘটনার এক দিন পরই এই নির্দেশ আরও স্পষ্ট করে দেওয়া হল। ঘটনার পর চার পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাও রোগী ও তাঁর পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়ে ঘটনাটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের নির্দেশে বলা হয়েছে, ভিআইপি কনভয়ের চলাচলের সময় অ্যাম্বুল্যান্স, দমকলের গাড়ি এবং পুলিশি জরুরি পরিষেবার যানবাহনের পথে কোনও বাধা দেওয়া যাবে না। ট্রাফিক ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের বিষয়টি সরাসরি নজরদারি করতে এবং কোনও গাফিলতির জন্য দায় নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়েও গাড়ির সংখ্যা যতটা সম্ভব কম রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়া মন্ত্রী, বিধায়ক বা সরকারি আধিকারিকদের মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের সঙ্গে না যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাঁদের আগে গন্তব্যে পৌঁছতে হবে অথবা কনভয় চলে যাওয়ার পর আলাদা ভাবে যেতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে, এই নির্দেশগুলি স্থায়ী নিয়ম হিসেবে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ আধিকারিকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সাধারণ যান চলাচলেও যাতে অযথা বিঘ্ন না ঘটে, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘মাত্র ৩০ সেকেন্ড’ থামানো হয়েছিল, দাবি হিমন্তের
এদিকে, শিলচরের ঘটনার পর রোগীর মৃত্যু নিয়ে তৈরি বিতর্কেরও জবাব দিয়েছেন হিমন্ত। বৃহস্পতিবার তিনি দাবি করেন, অ্যাম্বুল্যান্সটি ৩০ সেকেন্ডের বেশি থামানো হয়নি এবং রোগীর মৃত্যুর সঙ্গে ওই ঘটনার কোনও সম্পর্ক নেই।
হিমন্তের বক্তব্য, রোগী লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন এবং অ্যাম্বুল্যান্সটি অল্প সময়ের জন্য থেমেছিল। তাঁর মতে, এই দুই ঘটনার মধ্যে কোনও যোগ নেই।
রসুরাজ চক্রবর্তী নামে শ্রীভূমির বঙ্গার এলাকার ওই রোগীকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে আনা হয়েছিল। ১ অক্টোবর সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। অ্যাম্বুল্যান্সটি রামনগর আইএসবিটি এলাকায় মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় যাওয়ার সময় থামানো হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
রোগীর মৃত্যুর কারণ এবং অ্যাম্বুল্যান্স থামানোর সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক ছিল কি না, তা নিয়ে স্বাধীন ভাবে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও সামনে আসেনি। তবে ঘটনার পর সরকারের নতুন নির্দেশে একটি বিষয় স্পষ্ট—ভিআইপি কনভয়ের চলাচলের জন্য জরুরি পরিষেবার যানবাহন আর আটকে রাখা যাবে না।
শিলচরের ঘটনার পর কনভয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে এই কড়া নির্দেশ কার্যকর করতে প্রশাসন ও পুলিশকে সরাসরি দায়বদ্ধ করা হয়েছে।


