কেরল, কর্নাটক ও তেলঙ্গানার সরকারকে পদত্যাগের দাবি অসমের মুখ্যমন্ত্রীর, প্রতি পাঁচ বছর অন্তর ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনেরও সওয়াল
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
গুয়াহাটি:ভোটার তালিকায় কারচুপি বা ‘ভোট চুরি’ নিয়ে কংগ্রেসের অভিযোগের পালটা এবার ব্যালট পেপারে নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তাঁর দাবি, কংগ্রেস যদি কেরল, কর্নাটক ও তেলঙ্গানার সরকার থেকে পদত্যাগ করাতে রাজি হয়, তা হলে তিনি ব্যালট পেপারে ভোটে লড়তে প্রস্তুত। সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে এই মন্তব্য করেন তিনি।
হিমন্তের অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অধীনে ওই তিন রাজ্যেও ‘ভোট চুরি’র মাধ্যমে সরকার গঠিত হয়েছে। তাঁর কথায়, “রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস যদি তাদের সরকারগুলির পদত্যাগে রাজি থাকে, তা হলে আমি ব্যালট পেপারে নির্বাচনে লড়তে প্রস্তুত। কেরল, কর্নাটক ও তেলঙ্গানার সরকারকেও পদত্যাগ করতে হবে।”
তবে তিন রাজ্যের সরকার গঠনে ভোট কারচুপি হয়েছে বলে হিমন্ত যে অভিযোগ তুলেছেন, তার সমর্থনে এই বক্তব্যে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ তুলে ধরেননি তিনি।
এসআইআর নিয়ে সওয়াল
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার পক্ষেও জোরালো সওয়াল করেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের জনবিন্যাসে পরিবর্তন ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকা থেকে অবৈধভাবে অন্তর্ভুক্ত নাম বাদ দেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হিমন্ত বলেন, প্রতি পাঁচ বছর অন্তর এসআইআর হওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য, “প্রতি পাঁচ বছর অন্তর এসআইআর করার দাবি জানাচ্ছি। তা হলেই ভারতীয় গণতন্ত্রকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।”
তবে ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত অভিযোগ এবং নির্দিষ্ট ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার আইনি ভিত্তি যে পৃথক বিষয়, তা নিয়ে কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি মুখ্যমন্ত্রী।
রাহুল গান্ধীকে নিশানা
সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আরও আক্রমণ শানান হিমন্ত। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীরা বিদেশি শক্তির প্রভাবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। নেপাল ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, পর্যাপ্ত জনসমর্থন ছাড়াই সরকার পরিবর্তনের পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে।
কংগ্রেসের ‘ভোট চুরি’ বিরোধী কর্মসূচিকে কটাক্ষ করে হিমন্ত বলেন, রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মাত্র দুই থেকে তিন হাজার মানুষ যোগ দিচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে ‘হতাশ’ ও ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দবন্ধও ব্যবহার করেন তিনি।
অন্যদিকে, কংগ্রেস ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে আসছে। ভোটার তালিকার নির্ভুলতা, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।
হিমন্তের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই সংঘাতকেই আরও উসকে দিল। তবে ব্যালট পেপারে ভোটের শর্ত হিসেবে তিন রাজ্যের সরকারের পদত্যাগের যে দাবি তিনি তুলেছেন, তা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবেই সামনে এসেছে; তাঁর অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের জন্য কোনও নির্দিষ্ট তথ্য এই সাংবাদিক বৈঠকে প্রকাশ করা হয়নি।


