পাশাপাশি, সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তিতে স্থানীয় যুবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দক্ষ কর্মী তৈরি এবং পরিচ্ছন্ন শক্তি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
আগরতলা: ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ মেগাওয়াট পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে ত্রিপুরা। ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের পরিকাঠামো তৈরি এবং পানীয় জলের হাজার হাজার পাম্প সৌরশক্তিচালিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার।
বুধবার আগরতলায় ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন লিমিটেডের (টিএসইসিএল) সদর দফতরে বিশ্ব মান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই লক্ষ্যমাত্রার কথা জানান সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিশ্বজিৎ বসু।
ভারতীয় বিল্ডিংস কংগ্রেসের ত্রিপুরা শাখা ও টিএসইসিএলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মূল বিষয় ছিল সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন শক্তির মাধ্যমে উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।
বসু জানান, বর্তমানে ত্রিপুরায় ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থাপিত ক্ষমতা প্রায় ১৭ মেগাওয়াট। প্রায় দেড় লক্ষ বাড়িতে মোট ১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বসানোর একটি প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে। তা কার্যকর হলে বাড়িভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বড়সড় অগ্রগতি হবে।
এ ছাড়া ৩৩ কেভি স্তরে প্রায় ২০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা ক্ষমতার বিদ্যুৎ সঞ্চয় পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহের স্থিতিশীলতা বাড়ানো এবং চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে বলে আশা করছে সংস্থা।
পরিকল্পনার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ৫,০০০-এর বেশি পানীয় জলের পাম্পকে সৌরবিদ্যুৎচালিত ব্যবস্থায় নিয়ে আসা। এতে প্রচলিত বিদ্যুতের উপর নির্ভরতা কমবে।
পাশাপাশি, সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তিতে স্থানীয় যুবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দক্ষ কর্মী তৈরি এবং পরিচ্ছন্ন শক্তি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
বসু বলেন, বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, শক্তির দক্ষ ব্যবহার এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহ নতুন প্রযুক্তির প্রসারেও বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। তাই বিকল্প শক্তির উৎস বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ পরিকাঠামো শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় বিল্ডিংস কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার চিন্ময় দেবনাথ, ত্রিপুরা বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক কমিশনের চেয়ারম্যান হেমন্ত বর্মা, এনআইটি আগরতলার সহযোগী অধ্যাপক শুভদীপ ভট্টাচার্য এবং বিদ্যুৎ সংস্থার আধিকারিকরা।
ত্রিপুরার বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কতটা দ্রুত হয়, তার উপরই নির্ভর করবে ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের অগ্রগতি।


