এসআইআর-বিরোধী আন্দোলনের আড়ালে বাংলাদেশ ধাঁচে সরকার বদলের ছক, কংগ্রেসকে নিশানা রাজনাথের

2 - মিনিট |

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলনকে নির্বাচনী সংস্কারের দাবি মানতে নারাজ প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, যুবসমাজকে অশান্তি ছড়ানোর কাজে ব্যবহার করছে কংগ্রেস ও তার সহযোগীরা।

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

নয়াদিল্লি:ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে বিরোধীদের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও তার সহযোগী দলগুলিকে তীব্র আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশে ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মতো পরিস্থিতি তৈরি করে ভারতে সরকার বদলের চেষ্টা করছে বিরোধীরা। গণতন্ত্র রক্ষার নামে যুবসমাজকে রাজনৈতিক সংঘাত ও অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

শুক্রবার নয়াদিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে রাজনাথ বলেন, গণতন্ত্রের অর্থ এই নয় যে কেউ অশান্তি সৃষ্টি করবে কিংবা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করার চেষ্টা করবে। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস ও তাদের সহযোগীরা যুবসমাজের শক্তিকে গঠনমূলক কাজে লাগানোর পরিবর্তে রাজনৈতিক সংঘাত বাড়াতে ব্যবহার করছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কথায়, দেশের যুবকদের অস্থিরতার রাজনীতিতে দাবার ঘুঁটি করা হচ্ছে। বিরোধীদের এই অবস্থান দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে ক্ষতিকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনাথের দাবি, বিরোধী নেতাদের কেউ কেউ প্রকাশ্যেই বাংলাদেশ থেকে সরকার বদলের প্রেরণা নেওয়ার কথা বলেছেন। তাঁর মতে, এই ধরনের মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়, বিরোধীদের আন্দোলনের লক্ষ্য শুধুমাত্র নির্বাচনী সংস্কার বা ভোটার তালিকার সংশোধন নিয়ে আপত্তি জানানো নয়।

২০২৪ সালে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের জেরে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভারতে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও এটি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর রাজনৈতিক অভিযোগ; বিরোধীদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাঁর এই ব্যাখ্যা স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত কোনও তথ্য নয়।

এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং এর ফলে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিরোধীদের এই অভিযোগের মধ্যেই রাজনাথ সিং বলেন, ‘সরকার বদল’ বা ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর মতো শব্দের ব্যবহার থেকেই স্পষ্ট যে আন্দোলনটি নির্বাচনী সংস্কারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, আইন মেনে চলা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদা রক্ষা করা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অপরিহার্য।

রাজনাথের অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থে প্রতিষ্ঠানগুলিকে আক্রমণ করা কিংবা দেশের উন্নয়ন ব্যাহত করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। মিথ্যা প্রচার, ক্ষোভ এবং রাজনৈতিক সুযোগসন্ধানিতা ভারতের অগ্রগতিকে আটকে দিতে পারবে না বলেও দাবি করেন তিনি।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র রক্ষার কথা বলার পাশাপাশি জনগণের রায়কে সম্মান জানানো এবং নিজের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনা করা উচিত। সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনা ও দেশ গঠনের পথে হাঁটার আহ্বান জানান তিনি।

এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের আপত্তির কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা এবং যোগ্য ভোটারদের অধিকার সুরক্ষার প্রশ্ন। অন্যদিকে, কেন্দ্রের শাসক শিবির এই আন্দোলনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আক্রমণ করছে। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে প্রশাসনিক ও আইনি বিতর্কের পাশাপাশি রাজনৈতিক সংঘাতও ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *