শিলচরে পাঠাভ্যাসের নতুন ভাবনায়, সমাজসেবার অঙ্গীকার নিয়ে শুরু হচ্ছে ‘বিশ্বজিৎ গুপ্ত মেমোরিয়াল লাইব্রেরি ‘

2 - মিনিট |

মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এবং মানবিক সম্ভাবনার প্রতি অগাধ বিশ্বাসই এই উদ্যোগের মূল প্রেরণা

কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো

শিলচর: বর্তমান ডিজিটাল যুগ যেখানে বই পড়ার অভ্যাসকে ক্রমশ গ্রাস করছে, সেখানে শিলচরের মালুগ্রামে একটি সমাজভিত্তিক পাঠাগার মানুষকে বই পড়ার নির্মল আনন্দে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে।মালুগ্রামে ওল্ড কালীবাড়ি রোডে পনেরো নম্বর বাড়িতে গড়ে উঠছে ‘বিশ্বজিৎ গুপ্ত মেমোরিয়াল লাইব্রেরি’। বিশ্বজিৎ গুপ্ত যিনি ছিলেন একাধারে ব্যাংকার, ছাত্রনেতা, ইউনিয়ন নেতা এবং সংস্কৃতিপ্রেমী ; তাঁর স্মৃতিতেই এই লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এবং মানবিক সম্ভাবনার প্রতি অগাধ বিশ্বাসই এই উদ্যোগের মূল প্রেরণা ; বৃহস্পতিবার প্রয়াত বিশ্বজিৎ গুপ্তের জন্মদিনে এ কথা জানান তাঁর পুত্র ,কেআরসি ফাউন্ডেশন কর্ণধার ,সাংবাদিক বিশ্বদীপ গুপ্ত। তিনি বলেন,এই পাঠাগারটি ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক, তরুণ প্রজন্ম, গৃহিণী, অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ নাগরিক এবং কর্মজীবী পেশাদার সহ সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।এর মূল উদ্দেশ্য হলো ,এমন এক পরিবেশ তৈরি করা;যেখানে মানুষ পড়তে, ভাবতে, শিখতে স্বচ্ছন্দ ভাবে সময় অতিবাহিত করতে পারেন।

বিশ্বদীপ গুপ্ত জানান , পাঠাগারের সংগ্রহে রয়েছে পরিবারের কয়েক দশক ধরে সংগৃহীত ও কেনা বহু বই, পাশাপাশি দেশ-বিদেশের শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাধারণ মানুষের দান করা নানা ধরনের বই। পাঠক-পাঠিকাদের জন্য সদস্যপদের ব্যবস্থা থাকবে। সদস্যরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বই সংরক্ষণ করতে পারবেন এবং অনলাইনে বই পর্যালোচনা সভায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

বার্ষিক সদস্য মাশুল ধার্য করা হয়েছে তিনশো টাকা, একই সঙ্গে পাঠক-পাঠিকারা পাবেন ‘কেআরসি টাইমস’ -এর এক বছরের ই-কপির গ্রাহকপদ। সদস্যরা ছাড়াও সাধারণ দর্শনার্থীরা নির্দিষ্ট সময়ে পাঠাগারের সুযোগ-সুবিধা পাবেন। বই দান করতে এবং অন্যদের পড়ার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছোট ভিডিও রিভিউ পোস্ট করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

এই প্রকল্পের অন্যতম অনন্য দিক হলো, বই আদান-প্রদান এবং পুনর্ব্যবহারে গুরুত্ব আরোপ করা।“রিড, রিসাইকেল, রিচ, রিইউজ, রিজয়েস” শীর্ষক বুক ক্লাব উদ্যোগের আওতায় মানুষকে তাঁদের ব্যবহৃত ভালো অবস্থার বইগুলি দান করে সেগুলিকে নতুন জীবন দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে ।কেআরসি ফাউন্ডেশন প্রতি মাসে দানকৃত বইগুলি বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে পুনর্বিতরণের মাধ্যমে এর সঠিক ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি , পঠনপাঠনের সংস্কৃতিকে আরও সুদৃঢ় করতে এবং সমাজসেবামূলক কাজে অবদান রাখতে আগ্ৰহী শিক্ষার্থীদের জন্য এই পাঠাগারে ইন্টার্নশিপ-এর সুযোগও রাখা হয়েছে।

এ দিকে ,আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘স্বামী বিবেকানন্দ স্কুল অব লাইব্রেরি সায়েন্সেস’-এর ডিন ,অধ্যাপক মনোজকুমার সিনহা এই নতুন কমিউনিটি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি এই উদ্যোগকে এক মহৎ প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন।বিশ্বদীপ গুপ্ত এ কথা উল্লেখ করেন যে,আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে পাঠাগারটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related news