আরও ৪৩৯ জনের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিল হিমন্ত সরকার; দুই দফার শাসনে ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রার ৮২.৯ শতাংশ পূরণ, আগামী পাঁচ বছরেও নিয়োগ চলবে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
গুয়াহাটি: অসমে দুই লক্ষ সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে আরও এক ধাপ এগোল হিমন্ত বিশ্বশর্মার সরকার। রবিবার বিভিন্ন দফতরে ৪৩৯ জনের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকারের দুই দফার শাসনে মোট সরকারি নিয়োগের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৬৫,৭৪৯। অর্থাৎ, দুই লক্ষের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে এখনও ৩৪,২৫১টি নিয়োগ বাকি।
গুয়াহাটির শ্রীমন্ত শঙ্করদেব কলাক্ষেত্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরেও নিয়োগ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। তাঁর দাবি, রাজ্যে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছে এবং নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের সাফল্য উদ্যাপন করার সুযোগ পাচ্ছেন।
ব্যাঙ্ক থেকে স্বাস্থ্য, একাধিক দফতরে নিয়োগ
রবিবারের নিয়োগপর্বে অসম কো-অপারেটিভ অ্যাপেক্স ব্যাঙ্ক লিমিটেড, শ্রমকল্যাণ দফতর, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর এবং জলসম্পদ দফতর-সহ একাধিক প্রতিষ্ঠান ও বিভাগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অসম কো-অপারেটিভ অ্যাপেক্স ব্যাঙ্কের প্রসঙ্গ তুলে হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, একসময় আর্থিক সংকটে পড়ে ব্যাঙ্কটির রিজার্ভ ব্যাঙ্কের লাইসেন্স হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এখন তফসিলিভুক্ত ব্যাঙ্কের মর্যাদা পেয়েছে বলে জানান তিনি। সাম্প্রতিক নিয়োগপর্বে ব্যাঙ্কটিতে প্রায় ১৭৫ জনকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। আগের দফায় এই ব্যাঙ্কে ৫২৬ জনের নিয়োগ হয়েছিল বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
এ ছাড়া কর্মচারী রাজ্য বিমা নিগমের হাসপাতালগুলিতে ১২ জন বিমা চিকিৎসা আধিকারিক নিয়োগের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। শ্রমকল্যাণ দফতরে গত পাঁচ বছরে ৩৩৮টি শূন্যপদে নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
জনস্বাস্থ্য ও জলসম্পদ দফতরে আরও নিয়োগের পরিকল্পনা
জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরে ১৮৪ জন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। নিরাপদ পানীয় জল সরবরাহ এবং জল জীবন মিশনের মতো প্রকল্প বাস্তবায়নে এই দফতরের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, আগের দফায় এখানে ১,১৭৩ জনকে নিয়োগ করা হয়েছিল।
জলসম্পদ দফতরেও বড় নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, সিভিল ও মেকানিক্যাল শাখায় ৮৭০ জন সহকারী ইঞ্জিনিয়ার এবং ১৬ জন জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ করা হবে। আগের দফায় এই দফতরে ২,৮১৫ জনের কর্মসংস্থান হয়েছিল বলে তাঁর দাবি।
রাস্তা, পানীয় জল প্রকল্প এবং নদীবাঁধ নির্মাণে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ায় ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতক ও ডিপ্লোমাধারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সরকারি কর্মীদের পদোন্নতির প্রক্রিয়াও গত ছয় মাসে দ্রুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তাঁর বক্তব্য, পদোন্নতি ত্বরান্বিত হলে অভিজ্ঞ কর্মীরা উচ্চতর দায়িত্বে যেতে পারবেন। একই সঙ্গে প্রবেশস্তরের পদ খালি হবে, ফলে নতুনদের নিয়োগের সুযোগও বাড়বে।
দুই লক্ষ সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতি বিজেপি-নেতৃত্বাধীন জোটের বিধানসভা নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল। ৩ এপ্রিল বরাক উপত্যকায় নির্বাচনী সভাতেও এই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, ওই অঞ্চলে আরও কো-ডিস্ট্রিক্ট গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
এখন পর্যন্ত ১,৬৫,৭৪৯টি নিয়োগের হিসাব অনুযায়ী, ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৮২.৯ শতাংশ পূরণ হয়েছে। বাকি ৩৪,২৫১টি চাকরি পূরণ করতে আগামী দিনে নিয়োগের গতি কতটা বাড়ে, তার উপরই নির্ভর করবে দুই লক্ষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সময়সীমা।


