বিশ্বনাথের বৈঠকে দুই রাজ্যের সিদ্ধান্ত, গ্রাম ও পারিবারিক জমি নিয়ে জটিলতা মেটাতে মাঠে নামবেন জেলা প্রশাসন ও বিধায়কেরা; চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণে সাহায্য করবে সার্ভে অব ইন্ডিয়া
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
বিশ্বনাথ: অসম ও অরুণাচল প্রদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিবাদের অবশিষ্ট সমস্যাগুলি মেটাতে দু’মাসের সময়সীমা নির্ধারণ করল দুই রাজ্য। কিছু এলাকায় গ্রাম ও পরিবারের জমি নিয়ে জটিলতা থাকায় বিকল্প জায়গায় জমি দেওয়ার প্রস্তাবও বিবেচনা করা হচ্ছে। বিরোধ নিষ্পত্তির পর দুই রাজ্যের সীমানা চূড়ান্ত করা এবং সীমান্ত স্তম্ভ বসানোর কাজে সাহায্য করবে সার্ভে অব ইন্ডিয়া।
মঙ্গলবার বিশ্বনাথে দুই রাজ্যের আঞ্চলিক কমিটির যৌথ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে অসমের মন্ত্রী তথা আঞ্চলিক কমিটির চেয়ারম্যান কেশব মহন্ত, বিশ্বনাথ জেলার অভিভাবক মন্ত্রী ও কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান রণোজ পেগু এবং অরুণাচল প্রদেশের মন্ত্রী তথা আঞ্চলিক কমিটির চেয়ারম্যান বালো রাজা-সহ দুই রাজ্যের বিধায়ক ও পদস্থ আধিকারিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের পর কেশব মহন্ত জানান, আন্তঃরাজ্য সীমান্তের বেশ কিছু অংশে কোনও বিবাদ নেই। তবে কয়েকটি এলাকায় ছোটখাটো সমস্যা রয়ে গিয়েছে। বিশেষত, কোনও পরিবারের বসবাস এক রাজ্যে হলেও তাদের জমি অন্য রাজ্যের সীমানার মধ্যে পড়ায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
মহন্ত বলেন, “কিছু এলাকায় কোনও বিরোধ নেই, আবার কোথাও সামান্য সমস্যা রয়েছে। এমন ঘটনাও আছে, যেখানে পরিবার অসমে বসবাস করলেও তাদের জমি অরুণাচল প্রদেশে, কিংবা উল্টোটা। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকেরা সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা করে এই সমস্যাগুলি মেটানোর চেষ্টা করবেন। আমরা এক মাসের মধ্যে সমাধান চাইছি, তবে দু’মাসের সময়সীমা রাখা হয়েছে।”
এই সময়ের মধ্যে দুই রাজ্যের কমিশনার, জেলা প্রশাসন এবং বিধায়কেরা যৌথভাবে বিবাদপূর্ণ এলাকাগুলি চিহ্নিত করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেবেন।
তবে সব সমস্যার সমাধান যে সহজ হবে না, তা-ও স্বীকার করেছেন মহন্ত। বিশেষ করে পুরনো গ্রাম কিংবা পরিবারের দীর্ঘদিনের মালিকানাধীন জমি নিয়ে বিবাদ মেটাতে সংশ্লিষ্ট রাজ্য জমি ছাড়তে রাজি না-ও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিকল্প বন্দোবস্তের পথে হাঁটার কথা ভাবছে দুই রাজ্য।
মহন্তের কথায়, “কিছু ক্ষেত্রে পুরনো গ্রাম বা পরিবারের জমি রয়েছে, যা কোনও রাজ্য ছেড়ে দিতে চাইবে না। এমন পরিস্থিতিতে অন্য কোনও জায়গায় জমি দেওয়ার মতো বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনা করতে হতে পারে। বিষয়গুলি নিয়ে আঞ্চলিক কমিটিতে আরও আলোচনা প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।”
সীমান্তের চূড়ান্ত সীমানা নির্ধারণের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। মহন্ত জানান, অবশিষ্ট বিবাদ মিটে গেলে দুই রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে এবং সীমানা চিহ্নিত করা ও সীমান্ত স্তম্ভ বসানোর ক্ষেত্রে সার্ভে অব ইন্ডিয়ার সহায়তা নেওয়া হবে।
অরুণাচল প্রদেশের মন্ত্রী বালো রাজা বৈঠককে ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর আশা, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা এবং দুই রাজ্যের প্রশাসনের সমন্বয়ের মাধ্যমে বাকি সমস্যাগুলিরও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধান সম্ভব হবে।
রাজা বলেন, নির্বাচন ও দুই রাজ্যের অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে বৈঠক পিছিয়ে গিয়েছিল। তবে এবার আলোচনা হয়েছে এবং দুই রাজ্যের মানুষের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক কমিটিগুলি আলোচনার মাধ্যমে সীমান্ত বিবাদ মেটানোর কাজ চালিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।
বৈঠকে অসমের লখিমপুর ও বিশ্বনাথ জেলা এবং অরুণাচল প্রদেশের পাপুম পারে জেলার আধিকারিকেরাও উপস্থিত ছিলেন। এখন নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে জমি ও বসতির সঙ্গে যুক্ত অবশিষ্ট সমস্যাগুলি কতটা মেটানো যায়, তার উপরই নির্ভর করছে সীমান্ত নির্ধারণের পরবর্তী পদক্ষেপ।


