নির্বাচন কমিশনের দফতরের সামনে যৌথ বিক্ষোভ; ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া প্রত্যাহার ও স্বচ্ছতার দাবি বিরোধীদের
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
নয়াদিল্লি:ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই ৭ অক্টোবর দিল্লিতে পথে নামছে ইন্ডিয়া জোটের একাধিক দল। ওই দিন নির্বাচন কমিশনের দফতরের সামনে যৌথ বিক্ষোভ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করবে জোটের দিল্লির শাখাগুলি।
রবিবার দিল্লি কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে, কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিআই(এম), আরজেডি, এনসিপি এবং আরএসপি-সহ একাধিক দলের প্রতিনিধিদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ত্রুটি রয়েছে এবং তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত। তাঁদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ এমন ভাবে করতে হবে যাতে কোনও যোগ্য ভোটারের নাম বাদ না পড়ে এবং নাগরিকের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
দিল্লি কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অনিল ভারদ্বাজের বক্তব্য, এমন কোনও প্রক্রিয়া তাঁরা মেনে নেবেন না যার ফলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয় বা মানুষের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৭ অক্টোবরের কর্মসূচিতে দিল্লির ভোটারদের অধিকার, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা রক্ষার বিষয়গুলি সামনে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিরোধীদের এই অবস্থানের পিছনে রয়েছে এসআইআর ঘিরে গত কয়েক সপ্তাহের বিস্তৃত রাজনৈতিক বিতর্ক। ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি নিয়ে বিরোধী দলগুলি একাধিক প্রশ্ন তুলেছে। একই সময়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া আইন ও নির্ধারিত নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে।
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ইতিমধ্যেই একাধিক বিক্ষোভ হয়েছে। শুক্রবারের কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের একাংশকে আটকও করা হয় এবং পরে দিল্লি পুলিশ এই ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করে তিনটি এফআইআর দায়ের করেছে।
মুম্বই-সহ দেশের অন্য শহরেও একই দাবিতে প্রতিবাদ হয়েছে। ফলে এসআইআর নিয়ে বিতর্ক এখন শুধু ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রশাসনিক বিষয়েই সীমাবদ্ধ নেই; তা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটারদের আস্থা নিয়েও বৃহত্তর রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়েছে।
৭ অক্টোবরের কর্মসূচি সেই প্রতিবাদেরই আরও একটি বড় পর্ব হতে চলেছে। তবে বিরোধীদের দাবির বিপরীতে নির্বাচন কমিশন এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তকে আইনসম্মত বলে ব্যাখ্যা করে আসছে। ফলে দিল্লির ওই বিক্ষোভের আগে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


