জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছেও মেলেনি “শিল্প ভাতা”

2 - মিনিট |

বার্ধক্যজনিত রোগে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন পাথারকান্দির বিশিষ্ট মণিপুরী মৃদঙ্গ বাদক তথা একসময়ে ভারত থেকে বিভিন্ন নৃত্যের কলা কৌশল নিয়ে দেশ-বিদেশে প্রতিনিধিত্ব করা বিশিষ্ট নৃত্য গুরু লক্ষণ সিনহা

KRC Times Desk

এখন আর গলায় জড়ানো মৃদঙ্গ নেই আর পায়েও নেই ঘুঙুরের সেই রিমঝিম আওয়াজ। বার্ধক্যজনিত রোগে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন প্রায় একশ বছরের কৌটায় পৌঁছা পাথারকান্দির বিশিষ্ট মণিপুরী মৃদঙ্গ বাদক তথা একসময়ে ভারত থেকে বিভিন্ন নৃত্যের কলা কৌশল নিয়ে দেশ-বিদেশে প্রতিনিধিত্ব করা বিশিষ্ট নৃত্য গুরু লক্ষণ সিনহা।

বাড়ি পাথারকান্দির নয়াডহর প্রত্যন্ত এলাকায় হলেও জীবনের মধ্যভাগে শিলচরের নীলমাধব সিংহ, গুরু বিপিন সিংহ ও সেনারিক রাজকুমারের সঙ্গে ও তিনি পাড়ি দেন দিল্লিতে। অবশ্য এর আগে কাছাড়ের প্রয়াত মণিপুরী মৃদঙ্গ বাদক সূর্যমনি সিংহের কাছে নানা আঙ্গিকে মৃদঙ্গ বাজানো আয়ত্ত করেন। পরে দিল্লিতে গিয়ে বেশ কিছুদিন বিভিন্ন নৃত্য গুরুর কাছে আরও বেশকিছু নৃত্যের নানা কলা কৌশল ও আয়ত্ত করেন। পরবর্তীতে দিল্লির সঙ্গ এন্ড ড্রামা ডিভিশনের আমন্ত্রণে বেশকিছুদিন নৃত্য পরিচালকের মত গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন। সঙ্গে সঙ্গীত ও নাট্য বিভাগের অধীনে কত্থক, ওড়িশা, মণিপুরী প্রভৃতি বহুমুখী নৃত্য চালু করেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিজের মত করে উপস্থ্যাপন করেছিলেন অনেক নৃত্যনাট্য ও ।

একসময় সম্পূর্ন মণিপুরী আঙ্গিকে সৃষ্টি করা “ময়ূর” নৃত্যের প্রবর্তক ছিলেন নৃত্যগুরু লক্ষণ সিনহা। যদি ও পরবর্তীতে তা প্রচারের আলোয় না আসায় এর স্থায়ীত্ব থাকেনি বেশিদিন।
জানা গেছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর আমলে এই নৃত্য শিল্পী লক্ষণ সিনহার ঘরোয়া সু-সম্পর্ক ছিল। এমনকি এই লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর আমন্ত্রণে সেসময় দিল্লি থাকাকালীন অবস্থায় সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ডাক পেতেন তিনি। তাঁর এই বহুমুখী নৃত্য শৈল্পিকের দরুন তৎকালীন দিল্লি মুম্বাইর অনেক চিত্র পরিচালকরা ছায়াছবির নৃত্য চিত্রায়নের জন্য পরামর্শ নিতেন। যদিও পাঁচ পুত্র ও দুই কন্যা সন্তানদের পিতা হওয়ার সুবাদে স্ত্রী কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ায় জীবনের রঙিন স্বপ্ন স্বার্থক হবার আগেই ফিরে আসতে হয় নিজ জন্মভিটেয় নয়াডহর গ্রামে। শুধু তাই নয় বাড়িতে এসে স্ত্রী-সন্তানদের ভরণ-পোষণের তাগিদে ঘরে ঘরে গিয়ে উদার চিত্তে তার নৃত্যের শিল্পী-শৈলতার ডালা খুলে দিতেন। যারফলে আজকের দিনে ত্রিপুরার আগরতলা, গুয়াহাটি ছাড়া ও পাশ্ববর্তী বাংলাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তার অজস্র শিষ্য। প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন অনেকেই।

এতসবের পরও বার বার গুয়াহাটির সংষ্কৃতি ভবনে সরকারি আর্থিক সাহায্যের জন্য বিভিন্ন নথি-পত্রাদি নিয়ে ও বিফল মন নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয় প্রতিভাবান এই শিল্পীকে। ফলে অনেক মূল্যবান শংসাপত্র গুলো আজ তাঁর কাছে অর্থহীন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ ও শিল্প ভাতা থেকে বঞ্চিত পাথারকান্দির প্রতিভাবান এই নৃত্য শিল্পী। প্রচারে আলোয় না আসা প্রবীণ এই শিল্পী আজকের দিনের জন্য শুধু যে এতদঞ্চলের গর্ব তা কিন্তু নয় জীবনের বেশিরভাগ সময়ই তিনি এই ভারতবর্ষের নৃত্যের নানা শিল্প কলা বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে নিরলস প্রয়াস চালিয়ে গিয়েছিলেন। তা আজ তার অনেক শিষ্যরাই অকপটে স্বীকার করেন। অথচ সরকার আজ পর্যন্ত এমন প্রতিভাবান গুরুর মর্যাদা দেইনি এমনটাই আক্ষেপ তাদের।

সৌজন্যেঃ- হাইলাকান্দি (পি এন সি)

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *